সরকারি বাসস্থানে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে কিংবা এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেলে ওই ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিলের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রাজধানীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ২০টি টিমের সাথে এক সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব স্থানে অনিয়ম ধরা পড়বে এবং মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কঠোর জরিমানা আরোপ করতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত 'ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণবিষয়ক' সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

মীর শাহে আলম সভায় উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০টি পরিবীক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সচেষ্ট। তিনি স্বচক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারের অবস্থা দেখে এসেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা ও চরম অবহেলার চিত্র পাওয়া গেছে।’

পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। যেখানে অনিয়ম ও লার্ভা পাবেন, সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা ও কঠোর জরিমানা করবেন। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে না পারলে তাঁদের সরকারি বাসায় থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।’

রাজধানীর লেক ও খাল সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পূর্ব সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটির ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটির ২৬টি খালের পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও জাল বসানোর কাজ চলমান রয়েছে।

শহরের ডাস্টবিন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়ে মীর শাহে আলম জানান, প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন চুরি হওয়ার ঘটনা বিবেচনা করে এখন ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন বিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন পর্যায়ক্রমে এই নতুন বিনগুলো স্থাপন করবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, পরিবীক্ষণ টিমগুলো যদি সমন্বিতভাবে কঠোর ভূমিকা পালন করে, তবে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ঢাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০টি কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।