ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস বিশেষ কর্মসূচি পালন এবং প্রতি শনিবার এডিস মশা নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এটিএম বুথসহ সব স্থাপনায় এই কর্মসূচি পালন করতে হবে।

আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই নির্দেশনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, “সম্প্রতি ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সব স্থাপনা ও তার আশপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে—এমন পরিত্যক্ত ফুলের টব, অব্যবহৃত কৌটা, পুরোনো টায়ার ও প্লাস্টিকের বোতল ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি ভবনের ছাদ, গ্যারেজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, পানির ট্যাংক ও রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

অফিস ভবনের পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক স্থাপনাগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে কিংবা কয়েল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাম, শহর ও নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—যেমন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নেওয়া উদ্যোগেও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে।