রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মধুবাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করেন।
প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয়, সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন।’
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রার্থী সাদিক কায়েমের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাদিক কায়েম কী জিনিস, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মানুষ চিনে ফেলেছে…ডাকসু যেভাবে মনের মতো করে সাজিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে, সে ঢাকা দক্ষিণকেও ইনশা আল্লাহ সে রকমই মনের মতো করে সাজাবে।’
উল্লেখ্য যে, রোববার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ পার্কে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা থাকলেও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, সরকারিভাবে টিকা আনার ব্যবস্থা না থাকলে অন্তত বেসরকারিভাবে টিকা আমদানির সুযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার নিজেও আনবে না, বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।’
জামায়াতে ইসলামী বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে একটি মহামারি হিসেবে বিবেচনা করছে। শফিকুর রহমান জানান, এমন দুর্যোগের সময়ে দলটি নিষ্ক্রিয় থাকবে না। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও উত্থাপন করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ, তিনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভূমিকা রাখা প্রবাসী ভাইবোনদের পক্ষে কথা বলেছেন। আর সেই অপরাধেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং বুকে জ্যাকেট পরিয়ে অপমান করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম পৃথক বক্তব্য প্রদান করেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।