ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন চলাকালীনই শফিকুর রহমান এই দুই নেতাকে দলের প্রার্থী হিসেবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে কর্মরত।
অনুষ্ঠানে সেলিম উদ্দিনকে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের কথা উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে খাল পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন জামায়াতের আমির।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাদিক কায়েম কী জিনিস, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মানুষ চিনে ফেলেছে।…ডাকসু যেভাবে মনের মতো করে সাজিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে, সে ঢাকা দক্ষিণকেও ইনশা আল্লাহ সে রকমই মনের মতো করে সাজাবে।’
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারকে আমরা ঘুমাতে দিব না। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়। জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে, সরকার পাহারা দেবে, এটা সরকারের কাজ।’
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে জামায়াত অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানান শফিকুর রহমান। তবে এই অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জনগণ যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জামায়াত অনুদান ঘোষণা করেছে। তাঁরা অনুদানের টাকা বুঝিয়ে দিতে কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ধানাইপানাই লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা (সরকার) নিজেরা কিছু করবে না, জামায়াতকেও কিছু করতে দেবে না।’
রাতের অন্ধকারে রাড্ডা সেন্টার ধ্বংস করা এবং সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের পরোক্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ আনেন জামায়াতের আমির। তিনি দাবি করেন, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানো হলেও তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি এবং গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি। একইসাথে অন্যান্য দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য খাতের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর আগে হামে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। বর্তমান সরকার অতীতের সরকারগুলোকে দায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সাত মাসে কী করেছে? এখনো হামে শিশু মারা যায় কেন? সরকার যেন ব্যর্থতা স্বীকার করে নেয়।’
এছাড়া বিমানবন্দরের সীমাহীন দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের আমির।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।