রাজধানীর ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০টি জোনে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কমিটিগুলোর নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা ও সমন্বয়ের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চ পর্যায়ের মূল তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

আজ রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং মশকনিধনে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যেই সভায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মূলত ঢাকা মহানগরীর ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি করে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ১০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য ১০টি কমিটি থাকবে।

জোনভিত্তিক এই বিশেষ কমিটিগুলোতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মেডিক্যাল শাখার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন। কমিটির কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নেতৃত্বাধীন মূল তদারকি কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি ও ওই বিভাগের যুগ্ম সচিব, সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঢাকা ওয়াসা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এই কমিটিগুলো সরাসরি সরেজমিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে। খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও খননকাজ জোরদার করার পাশাপাশি মশকনিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব।

পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।