ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর ছয়টি এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে লার্ভার উপস্থিতি পেয়ে ২৮টি মামলা করেছে সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলার আওতায় মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আজ রোববার মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাঁও, উত্তরা-নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকায় পৃথকভাবে এই অভিযানগুলো চালানো হয়। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক এবং দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন মাসের মশকনিধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি যাচাই করা হয় এবং যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সবচেয়ে বেশি মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে অঞ্চল-৬-এ। উত্তরা মডেল টাউনের ১১ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর এবং তুরাগ থানাধীন ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ১২টি মামলায় মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া অঞ্চল-৫ ও অঞ্চল-৪-এ ৫টি করে মোট ১০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৫ নম্বর অঞ্চলে ৪৫ হাজার এবং ৪ নম্বর অঞ্চলে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অঞ্চল-২-এ দুটি মামলায় ২৫ হাজার টাকা, অঞ্চল-৩-এ একটি মামলায় ৫ হাজার টাকা এবং অঞ্চল-১-এ তিনটি মামলায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, "উত্তরা উত্তর মেট্রোস্টেশন থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এসব ওয়ার্কশপে পরিত্যক্ত অনেক টায়ারে বৃষ্টির পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মেছে। ওই এলাকাতেই বেশির ভাগ জরিমানা করা হয়েছে। একটি ওয়ার্কশপকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।"

ডিএনসিসি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের কর্মসূচিতে কেবল জরিমানা বা অভিযান নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, মশকনিধনবিষয়ক মাইকিং, নোবেলিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।