ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের জন্মদাত্রী মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এক নারী। গতকাল রোববার রাতে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত বৃদ্ধার পরিচয় পাওয়া গেছে সেতারা বেগম (৭০) হিসেবে, যিনি ওই এলাকার মৃত হোসেন আহমদের স্ত্রী। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক রানু আক্তার বিবাহিত। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি অসংলগ্ন আচরণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে স্বামীকেও মারধর করেন বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতির কারণে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে গতকাল রাত ৯টার দিকে রানু আক্তার হঠাৎই তাঁর বৃদ্ধা মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

ঘটনার পর প্রতিবেশীরা জানালার পাশে এসে ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখতে পান। সেখানে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন সেতারা বেগম এবং পাশে বঁটি হাতে পায়চারি করছেন রানু আক্তার। এই দৃশ্যটি বেশ কিছু প্রতিবেশী ভিডিওতে ধারণ করেন। ওই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, রানু আক্তার বঁটি হাতে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াচ্ছেন।

প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেতারা বেগমের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মুহূর্তে ঘরের ভেতরে সেতারার পাশাপাশি রানু আক্তার এবং সেতারার এক পুত্রবধূ উপস্থিত ছিলেন। মাকে হত্যার পর রানু আক্তার বঁটি হাতে ওই পুত্রবধূকেও তাড়া করেন, যার ফলে তিনি ঘরের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন।

নিহত সেতারা বেগমের এক ছেলে ফিরোজ আলম, যিনি প্রবাসী এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এসেছেন, জানান যে তাঁর বোন রানু আক্তারের দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে নিয়মিত ইনজেকশন ও ওষুধ দেওয়া হতো। ফিরোজ আলমের দাবি, "গতকাল রাতে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টার সময় রানু আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর বঁটি এনে তাঁর মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।"

পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ঘরটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং রানু আক্তারকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, "নিহত বৃদ্ধার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বটির কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রানু আক্তারকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করেছেন। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"