দেশের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজদের জন্য কোনো স্থান নেই এবং তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপস করা হবে না। এমনকি চাঁদাবাজ যদি তার নিজের ছেলেও হয়, তবে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মন্ত্রীর মতে, চাঁদাবাজির প্রভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশকে নষ্ট করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি দেশে যদি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সঠিক পরিবেশ না থাকে, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। এর ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দেশে বর্তমানে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। অথচ বিনিয়োগ নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ওপর। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশজ সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে, যাতে কেউ বৈষম্যের শিকার না হয়।"

সাম্প্রতিক সামাজিক পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে দেশে শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে; এ বিষয়ে আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, যাতে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।"

দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন হায়দার লিটনের সভাপতিত্বে এবং ব্যবসায়ী গোলাম রসুল মেননের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সফিকুর রহমান, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়জুল আজিম নোমান, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ এস এম নূর নবী দুলালসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।