ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় মো. শাকিল হোসেন নামে এক যুবককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ে আসামি পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ জুন কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় দাগনভূঞা পৌরসভার আলাইয়ারপুর এলাকার বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়েটি। কিছুদিন পরও বাড়ি না ফেরায় তার মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন।

তদন্তকালে ওই বছরের ২২ জুন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পাশে মেয়েটির নানার বাড়ির সংলগ্ন মো. শাকিল হোসেনের ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শাকিল লক্ষীপুরের রামগঞ্জের বেপারী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে। ঘটনার পর শাকিলকে গ্রেপ্তার করে দাগনভূঞা থানায় নিয়ে আসা হয় এবং অপহরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অপহরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। মামলায় মোট ৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মনোয়ার হোসেন জানান, শাকিল বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করে লক্ষ্মীপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, "রায়ে আসামি শাকিলের ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাস দেওয়া হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ে সমাজে নারীর প্রতি অবিচার ও সহিংসতা কমবে।"