সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাঁর মরদেহ অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের স্ত্রী, দুই সন্তান ও অন্যান্য স্বজনদের হাতে মরদেহটি তুলে দেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। ফলে সেখানে যেকোনো যুদ্ধাবস্থা বা দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশিরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এবং আমরা সব সময় তাদের নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকি।”
পাশাপাশি তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং ধ্বংসাত্মক হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। যেকোনো ধরনের সহিংসতায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি রোধে তিনি বৈশ্বিক প্রার্থনার কথা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টায় সৌদি আরব থেকে শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবে সংঘটিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বগুড়ার বাসিন্দা শাহেদ আহম্মেদসহ মোট তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের যৌথ ও দ্রুত প্রচেষ্টায় শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাকি দুজন নিহতের মরদেহও খুব দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এই শোকের মুহূর্তে প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, মরদেহ হস্তান্তরকালে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দাফন ও যাতায়াত খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া, নিহতের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতাদি ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ ২৭,৩৯৫.৬২ সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ লাখ টাকা) রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। এই অর্থ খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিএমইটি কার্ড বা বৈধতা সাপেক্ষে পরিবারটি পরবর্তীতে আরও ৩ লাখ টাকা এবং বিমা কাভারেজ থাকলে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।