সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

নিহত মো. সাহেদ আহম্মেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে অবগত করেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পরিবার ও স্বজনরা জানান, এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন সাহেদ। শনিবার সকাল ৯টায় তার ফ্লাইট ছিল। শনিবার বিকেলের দিকে রিয়াদে পৌঁছানোর পর পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। আকস্মিক এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।

নিহত সাহেদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। অন্যদিকে তার মা সাহেরা বেগম তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেছেন।

জানা গেছে, সাহেদের দুটি সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে কাওছার আহমেদ জিসানের বয়স ১১ বছর এবং ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ আল জিহাদের বয়স ৬ বছর।

এর আগে সাহেদের চাচা লুৎফর রহমান জানান, পরিবারের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকেও প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

এদিকে রোববার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।