সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত একটি সোফা তৈরির কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো নাটোরের দুই প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ তাদের নিজ জেলা নাটোরের নলডাঙ্গায় পৌঁছেছে। প্রিয়জনের নিথর দেহ ফিরে আসায় স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের রাব্বানী আলীর ছেলে সাব্বির হোসেন এবং একই উপজেলার খোলাবাড়িয়া দীঘিরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে শামীম।

নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্তানদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে এবং এমনকি নিজেদের জমিজমা বিক্রি করে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার যে স্বপ্ন নিয়ে তারা বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার। তারা ফিরে এসেছেন নিথর দেহে। এখন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার বাইরে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

এদিকে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি পর্যায় থেকে সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে আর কেউ তাদের খোঁজখবর নেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

এই শোকার্ত পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এই অসহায় পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে বাংলাদেশের ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা গ্রামের হৃদয়ের মরদেহ আগেই দেশে পৌঁছেছিল এবং আজ আরও দুজনের মরদেহ পৌঁছেছে। আজ বিকেলে খাজুরা কেন্দ্রীয় গোরস্তানে সাব্বিরের মরদেহ দাফন করা হবে এবং শামীমের মরদেহ দাফন করা হবে দীঘিরপাড় গোরস্তানে।