সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, যাদের মরদেহ সম্প্রতি দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই ৭ জনের মধ্যে ৫ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার নিথর দেহ উত্তরবঙ্গের নওগাঁ জেলায় পৌঁছেছে।
মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। প্রিয়জনকে চিরতরে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা।
নওগাঁয় যে মরদেহগুলো আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার পার-নওগাঁ মরছুলা স্কুল পাড়ার বাসিন্দা শাহীন, আত্রাই উপজেলার ইসলামগাথী গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মাধবপুর গ্রামের মসিদুল সরদার সজিব, খনজোর গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।
নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ এলাকার মরছুলা স্কুল পাড়ার বাসিন্দা শাহীনের বাড়িতে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। শাহীনের মা নার্গিস বেগম শোকে বিহ্বল হয়ে জানান, ছেলের বয়স যখন মাত্র চার মাস, তখনই তার বাবা মজনু রহমান মারা যান। চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি শাহীনকে বড় করেছিলেন। ছেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি অশ্রুসজল চোখে বলেন, “ঘটনার দিন রাতে খাসির মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার কথা বলেছিল শাহীন।” কিন্তু সেই ঘুম যে তার শেষ ঘুম হবে, তা কেউ জানত না।
শাহীনের মৃত্যুর ফলে তার দুই নাবালক সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা চরম সংকটে পড়েছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। বর্তমানে শাহীনের বন্ধুদের সহায়তায় পরিবারটি কোনোমতে দিনাতিপাত করছে।
শাহীনের শ্বশুর আব্দুল মালেক মোল্লা জানান, বাদ আসর মরছুলা স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। তিনি নিহত শাহীনের পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য একটি স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি শাহীনের দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা ও দেখাশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।