সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদ। আজ শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যথাযথ প্রক্রিয়ার পর তাঁর লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার তাঁর স্বামীর মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী গাড়িতে করে তাঁরা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছন।
গত ১০ অক্টোবর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের চালানো এক হামলায় শাহেদ আহম্মেদ নিহত হন। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে প্রবাসী এবং মা শাহেরা বেগম একজন গৃহিণী। শাহেদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে—কাওছার ও আবদুল্লাহ, যাদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।
পেশায় প্লাম্বার হিসেবে সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন শাহেদ। দেশটিতে তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা ইকামা ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে এক মাসের ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে পুনরায় জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রিয়াদ বিমানবন্দরে অবস্থান করার সময় হুতিদের সেই প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন তিনি। ওই হামলায় শাহেদসহ মোট দুই বাংলাদেশি নিহত হন। অন্য নিহত ব্যক্তি কুমিল্লার নাঙ্গোলকোট উপজেলার বাসিন্দা নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কেবল শাহেদের মরদেহ আজ দেশে ফিরেছে। বাকিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর সরকারি চাচাইতারা-মাদলা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর পারিবারিক গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হবে।
মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে কহিনুর আক্তার বলেন, ‘লাশ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর পর সরকারি চাচাইতারা-মাদলা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হবে।’
শাহেদের চাচাতো ভাই মাসুম রানা জানান, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা গভীর শোকাচ্ছন্ন হয়ে শাহেদের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বাড়ির পাশেই কবর খোঁড়া হয়েছে এবং জানাজা শেষে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।