ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঋণের টাকা না পেয়ে কৃষি ব্যাংকের একটি শাখায় ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে কাওসার আহমেদ (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সোহাগী বাজারে কৃষি ব্যাংকের শাখায় এই দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত যুবক নৈশপ্রহরীকে বেঁধে ফেলে ব্যাংকের ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। তবে নৈশপ্রহরীর উপস্থিত বুদ্ধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত তৎপরতায় তিনি ধরা পড়েন।
গ্রেপ্তার হওয়া কাওসার উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত।
ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম সাগর ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গভীর রাতে ব্যাংকের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন কাওসার। সেই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম ভাঙার পর কাওসার তার কাছে ব্যাংকের ভল্টের অবস্থান জানতে চান। একপর্যায়ে ছুরির ভয় দেখিয়ে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা শুরু করেন ওই যুবক।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “হাত-পায়ের বাঁধন কিছুটা ঢিলে থাকায় নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হই। এরপর দ্রুত নিচে নেমে চিৎকার শুরু করলে বাজারের পাহারাদার, টহল পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে কাওসারকে আটক করে।”
ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন জানান, নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার কারণেই অভিযুক্তকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই ঘটনাটিতে ব্যাংকের কোনো টাকা খোয়া যায়নি এবং ভল্টেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কাওসার এর আগে ব্যাংকে কোনো ঋণের আবেদন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপক জানান, কাওসার তাদের শাখায় কোনো ঋণ নিতে আসেননি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার স্বীকার করেছেন যে কয়েক মাস আগে বিয়ের সময় তার প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ হয়। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি কৃষি ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়েছিলেন, কিন্তু ঋণ পাননি। এরপরই তিনি ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেন।
ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যাংকটির কর্মকর্তা নাজমুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।