ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপনের মাঝেই এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের খবর পায় প্রশাসন। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি কনের বাবাকে জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলা পরিষদের হলরুমে, যেখানে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা চলছিল। অনুষ্ঠানের মাঝখানেই প্রশাসন জানতে পারে যে, সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছে। খবর পাওয়ার পরপরই অনুষ্ঠান শেষ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গতকাল রোববার রাতেই একটি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েটি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। তার বাবা পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নয়াশিমুল গ্রামের বাসিন্দা এক পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের কথা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ সোমবার মেয়েটিকে তার স্বামীর ঘরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে উপজেলা পরিষদে কন্যাশিশু দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন এই বিয়ের খবরটি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর ইউএনও সানজিদা রহমান ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা দ্রুত সেখানে অভিযান চালান।
অভিযান চলাকালীন মেয়েটির পরিবার স্বীকার করে যে, গতকাল পৌরসভার স্থানীয় কাজি (নিবন্ধক) ওবাদুল্লাহর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের আওতায় কনের বাবাকে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ রাখতে এবং বরপক্ষকে বিয়েবাড়িতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয় মেয়ের বাবাকে। এছাড়া মেয়েটি ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না করা পর্যন্ত তাকে স্বামীর ঘরে পাঠানো হবে না, এই মর্মে তার বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে স্থানীয় কাজি ওবাদুল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, “সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স ১৮ বছর দেখানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে সেটি ভুয়া বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবাকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে যাতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো না হয়।”
নিবন্ধনকারী কাজির বিষয়ে ইউএনও আরও জানান, “বিয়ের নিবন্ধনকারী কাজিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিয়ের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”