দুই লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়েছিলেন কাওসার আহমেদ নামের এক তরুণ। তবে কাঙ্ক্ষিত ঋণটি না পাওয়ায় তিনি পুরো ব্যাংক লুটের এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেন।
পেশায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি কাওসার গতকাল বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী বাজার এলাকায় অবস্থিত কৃষি ব্যাংকের শাখায় প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি প্রথমে ছুরির ভয় দেখিয়ে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে ফেলেন। এরপর তিনি ব্যাংকের ভল্টের (যে সুরক্ষিত স্থানে টাকা রাখা হয়) কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে শেষ মুহূর্তে তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা করার সময়ই তিনি ধরা পড়েন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত কাওসার আহমেদ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার স্বীকার করেছেন যে, ব্যাংক থেকে ঋণ না দেওয়ায় তিনি ভল্টের তালা ভেঙে টাকা লুট করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম (সাগর) বলেন, ‘গভীর রাতে গেটের তালা ভেঙে এক যুবক ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে ডাকাডাকি শুরু করেন। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। টাকা কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চান। ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখিয়ে আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর ওই যুবক ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন।’
মাজহারুল ইসলাম আরও জানান, হাত ও পায়ের বাঁধন খুব বেশি শক্ত ছিল না অর্থাৎ কিছুটা ঢিলেঢালা ছিল। ফলে তিনি কৌশলে নিজেকে মুক্ত করে নিচে নেমে চিৎকার করতে শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে বাজারের পাহারাদার, টহল পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন এবং ওই যুবককে ধরে ফেলেন।
নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই ওই যুবককে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই দুঃসাহসিক চেষ্টার পর জানা গেছে যে, ব্যাংকের কোনো টাকা খোয়া যায়নি এবং ভল্টেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
ব্যাংকে চুরির এই চেষ্টার ঘটনায় শাখাটির কর্মকর্তা নাজমুল হক আজ বিকেলে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
শাখাটির ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নিরাপত্তাকর্মীর বুদ্ধিমত্তায় ওই যুবককে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো টাকা খোয়া যায়নি। ভল্টেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই যুবক ব্যাংকে কখনো ঋণের জন্য আসেননি।
এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে কাওসার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার আসামিকে আদালতের সোপর্দ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, গ্রেপ্তার কাওসার পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ আছে। কয়েক মাস আগে বিয়ে করার সময় এই ঋণ করেছিলেন। কৃষি ব্যাংকে ঋণ নিতে গিয়েছিলেন; তা না পেয়ে ভল্ট থেকে টাকা চুরির পরিকল্পনা করেন।
ওসি সাজ্জাদ রোমন আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং শুক্রবার আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।