পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল একটি সংবাদ প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘ডিসির মতবিনিময় সভায় “এমপির প্রতিনিধি” হিসেবে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি’।

ইউএনও শেখ মো. রাসেল উল্লেখ করেন যে, গত ৯ অক্টোবর মুক্তকণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে ওই শিরোনামে একটি লিখিত সংবাদ এবং একটি ভিডিও রিল প্রচার করা হয়। তাঁর দাবি, প্রকাশিত ওই সংবাদের তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বাস্তবতার যথেষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে ইউএনও বিষয়টি স্পষ্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জামিনে থাকার কারণে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালত কর্তৃক এখনো প্রমাণিত না হওয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হয়েছেন এবং তিনি নিয়মিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় থাকেন। নিম্ন স্বাক্ষরকারী তাঁকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মানিত পটুয়াখালী এর মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ জানান। স্থানীয় বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং থাকলেও প্রত্যেক গ্রুপের নেতৃস্থানীয়দের জানানো হয়েছিল এবং তাঁরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় তথ্যমতে, জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী বিএনপির তৃণমূল থেকে আসা নেতা। তিনি উপজেলা ছাত্রদল ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। সর্বশেষ কমিটিতে তিনি ২০২৩ সালে কল ২৪-৪ ভোটে উপজেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জামিনে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ রকম সংবাদ পরিবেশনায় উপজেলা প্রশাসনের সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

প্রতিবাদলিপিতে ইউএনও আরও বিস্তারিত জানান, ‘গত ৭ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে তাঁর (জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী) বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা হয়, যেটিতে তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন। প্রায় দুই বছরের পুরোনো মামলাটি নিয়ে এলাকায় তেমন কোনো আলোচনা হয় না। এমনকি এর পূর্বে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে তিনি এমপির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও কেউ কোনো আপত্তি উপস্থাপন করেননি। এ কারণেই উপজেলা প্রশাসন তাঁর উপস্থিতিকে সব সময়ই স্বাভাবিক চোখে দেখে।’

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিবেদনটি তৈরির সময় সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল এবং সেখানে ইউএনও শেখ মো. রাসেলের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিবেদকের দাবি, পুরো সংবাদের ভেতরে তাঁর নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত ভাষ্য নেই। এছাড়া প্রতিবাদলিপিতে সুনির্দিষ্টভাবে কোন তথ্যের অসংগতি রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।