কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার করা চারটি অঙ্গার দেহ বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলোর এমন করুণ দশা হয়েছে যে, বাহ্যিক অবয়ব দেখে কোনোভাবেই তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া এই চারটি মরদেহের মধ্যে দুটি শিশুর দেহ রয়েছে। নিখোঁজ নাহিদ রহমান, তার স্ত্রী আফসানা এবং দুই মেয়ে রুজাইনা ও সুনাইনার স্বজনরা এই মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের প্রিয়জনদের খুঁজছেন, তবে নিশ্চিত হতে পারছেন না। এখন কেবল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা।

নিখোঁজ নাহিদের ভাই জাহিদুর রহমান এই পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি জানান, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা এবং দুই মেয়ে রুজাইনা ও সুনাইনার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার তীব্র আকুতি, অন্যদিকে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।

জাহিদুর রহমান বলেন, “যে চারটি মরদেহ রয়েছে, তার মধ্যে দুটি শিশু আছে। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারছি না। চেহারা চেনার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আহতদের মধ্যেও আমার ভাই, ভাবি নেই। পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। এর বেশি আর কিছু বলতে পারব না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘টুকটুক রিসোর্ট’-এর মেমো থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে থাকার জন্য বুকিং দিয়েছিলেন নাহিদ। তবে বুকিং নেওয়ার পর তাদের সাথে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানান, উদ্ধারকৃত ১০টি মরদেহের দাবিদার হিসেবে একাধিক পরিবার সামনে এসেছে। তবে আগুনে মরদেহগুলোর মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই কারণে দাবিদার পরিবারগুলোর সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের জানা মতে, বর্তমানে আর কেউ নিখোঁজ নেই। তবে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আমরা উদ্ধার অভিযান গতকাল বিকেলেই সমাপ্ত ঘোষণা করেছি। সর্বশেষ যে চারজনকে উদ্ধার করেছি সেখানে দুটি শিশু ছিল।”

উল্লেখ্য যে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেই ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। শনিবার (১৮ অক্টোবর) অগ্নিকাণ্ডের দিন রিসোর্টের ৬টি রুমে মোট ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন সকালে বাইরে গিয়েছিলেন।