শুরুতে বোলিংয়ে দারুণ দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেল বাংলাদেশ। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচটিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও সেই সুবিধা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের বিধ্বংসী জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আড়াইশ রানের বেশি সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরোনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি করে বাংলাদেশ; পুরো ৫০ ওভার তো দূরে থাক, ৩৪ ওভারও টিকতে পারেননি ব্যাটাররা। ফলে ৯৯ রানের বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। চোটের কারণে লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া তাওহীদ হৃদয় জয় এই ম্যাচে কোনো সাফল্য বয়ে আনতে পারেননি।
আহত নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন, আর জ্বরের কারণে একাদশে ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদের শুরুটা ছিল দেখার মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে ফিরিয়ে আনেন তিনি। এরপর বেন কারান (৬) এবং তাফাদজাওয়া সিগাকেও (১৬) দ্রুত আউট করেন এই পেসার। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে।
তবে সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে তারা অবিশ্বাস্য ১৫০ রানের জুটি গড়েন। টেলর ১০১ বলে ১০টি চার মেরে ৮১ রান করেন এবং আরভিন ১০৬ বলে ৯টি চারসহ ৯৩ রান সংগ্রহ করেন। যদিও দুজনের কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি, তবে তাদের এই বিশাল জুটিতেই জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে নেয়।
৩৭তম ওভারে সাইফ হাসান টেলরকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। এরপর তিনি সিকান্দার রাজাকেও (৪) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। শরীফুল ইসলাম আউট করেন আরভিনকে। তবে অষ্টম উইকেট পতনের পর নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আরও ৩৭ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত দুজনই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন। শরীফুল ইসলাম ৪৭ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং সাইফ হাসান ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। অন্যদিকে রিশাদ হোসেন ৬৬ রান দিয়ে পান মাত্র একটি উইকেট।
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকারকে নিয়ে প্রথম উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। তবে সৌম্য ৯ রানে আউট হওয়ার পর খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি তানজিদও। ৩৮ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৬ রান করে বিদায় নেন এই ওপেনার।
তানজিদের পতনের পর শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৪ রান করে ফেরেন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন; ২১ বলে ১৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১৭তম ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেটে ৯৭ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
মধ্যম সারির ব্যাটাররাও এই ম্যাচে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। মোসাদ্দেক হোসেন ১১ রান, সাইফ হাসান ২৬ রান এবং নুরুল হাসান সোহান ৫ রান করে আউট হন। এরপর শরীফুল ইসলাম শূন্য রানে আউট হলে ১২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ রান এবং তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে অপরাজিত ১৬ রান করে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনেন। তবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে তারা খুব বেশি সময় টিকে থাকতে পারেননি। ৩৪তম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিজের বলে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান ব্র্যাড ইভান্স।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪৫ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ইভান্স। এছাড়া সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতা আবারও প্রকট হয়ে উঠল। ম্যাচের আগে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন লিটন দাস, কিন্তু মাঠে সেই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কোনো চিহ্ন মেলেনি।