২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আট বছরের এক দীর্ঘ সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯ বার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সেই ১৯টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এক সময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তখন অবিশ্বাস্য দাপট দেখিয়েছিল টাইগাররা।
তবে ২০২২ সালের জিম্বাবুয়ে সফরের পর থেকে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। হারারেতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে জিম্বাবুয়ে। ২০১৩ সালের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের প্রথম জয়। এরপর হারারেতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিও জিতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলে।
পরবর্তীতে ওয়ানডেতে দুই দল আরও পাঁচবার মুখোমুখি লড়াই করেছে, যার মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। এর ফলে ওয়ানডেতে সর্বশেষ সাতটি ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ের পাল্লা ৫–২ ব্যবধানে ভারী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরাজয়টি ঘটে পরশু আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে। সেখানে ৯৯ রানের এক বিশাল ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায়, আর তা ঘটে মাত্র ৩৩.৪ ওভারে।
ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল। তাসকিন আহমেদ নিজের প্রথম চার ওভারের বোলিংয়েই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোরকে ২৪/৩-এ নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ১৫০ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে ওঠে। এই মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ ১৪ ওভারে আরও প্রায় ১০০ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে।
এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের করুণ প্রদর্শনী। এই শোচনীয় ব্যাটিংয়ের কারণে আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। বুধবার লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ‘স্বাগতিক’ আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে বাংলাদেশ। এমনকি আজ আফগানিস্তান যদি জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দেয়, তবে শেষ ম্যাচে জয় পাওয়াটাও নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
পরশু চোটের কারণে ম্যাচের আগেই মাঠ থেকে ছিটকে যান লিটন দাস। আর তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে খেলতে নেমে বাংলাদেশ বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন আহমেদ এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে বড় জুটির অভাবকে চিহ্নিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এই পেসার বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও (বড়) জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল হয়ে থাকে। বোলিংয়ে অবশ্য ধারাবাহিকতা আগের চেয়ে বেড়েছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারেনি।”
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটিটি ছিল প্রথম উইকেটে, যেখানে ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান ৪৭ রান যোগ করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রানের জুটিটি গড়েছিল নবম উইকেটে তাসকিন ও রিশাদের মধ্যে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন বিপর্যয় নতুন কিছু নয়। চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়ার এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন তাসকিন। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য নিয়ে তাঁর মনে কোনো প্রশ্ন নেই। তাসকিনের মতে সমস্যাটি অন্য জায়গায়, তিনি বলেন, “ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা (ব্যাটসম্যানদের) একটু বেশি। স্কিল কিন্তু সবারই আছে। প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে, তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝেমধ্যে দেখবেন, চাপে পড়লে আমরা খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটা থেকেই আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতেই হবে।”