দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। যদিও এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা বিশ্বকাপের মতো বহুজাতিক আসরগুলোতে বাংলাদেশ নিয়মিত অংশ নিয়েছে, তবে নির্দিষ্টভাবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ ক্রিকেট ক্যালেন্ডার থেকে কার্যত হারিয়ে গিয়েছিল। সেই দীর্ঘ বিরতির পর আগামীকাল থেকে আবারও এই ফরম্যাটে মাঠে নামছে টাইগাররা।

পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, তবে তার মধ্যে মাত্র একটিতে তারা শিরোপা জিততে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাসের মতে, দলের সামগ্রিক উন্নতির জন্য এই ধরনের বহুজাতিক টুর্নামেন্টগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আজ আবুধাবিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে লিটন দাস বলেন, “ত্রিদেশীয় সিরিজ খেললে একটা বাড়তি চাপ থাকে। তিনটা দলের জন্য একইরকম চাপ থাকবে যে ফাইনালে উঠতে হবে। আপনি যখন সিরিজ খেলেন কোনো একটা চাপ আসে না কারণ আপনি জানেন প্রথম ম্যাচ হেরে গেলেও একটা সুযোগ থাকে। কিন্তু এখানে হেরে গেলে রানরেটের বিষয় চলে আসে।”

গত জুলাই মাসে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ধাক্কার আগে টানা চারটি সিরিজে জয়লাভ করেছিল তারা। মাঝপথে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও পরবর্তীতে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ নয় দলের মধ্যে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

পূর্বের সিরিজগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এই ত্রিদেশীয় আসরেও সাফল্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী লিটন। তিনি বলেন, “আমাদের ছেলেরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলছে গত কয়েকটা সিরিজে। আমাদের পরিপক্বতা অনেক বেড়েছে। আশা করি আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলব।”

এই সিরিজের মাধ্যমেই ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন লিটন দাস। মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে আগামী বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর এই নতুন যাত্রার শুরু হচ্ছে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে। এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লিটন বলেন, “আপনি যদি দেখেন এই দলটা অনেক ভালো ভালো সিরিজ খেলেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে অনেক ভালো খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় এই দলটাতে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে আর সঙ্গে আমরা যাঁরা সিনিয়র আছি—যদি সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি তাহলে সবকিছু সম্ভব।”