বল হাতে দুর্দান্ত এক সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ইনিংসের প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই জিম্বাবুয়ের তিন উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ, যার বিনিময়ে রান খরচ হয়েছিল মাত্র ২৪। তবে তাসকিনের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত দলের জয় এনে দিতে পারেনি; ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচটি জেতার প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় চরম হতাশ তাসকিন। তার মতে, এই রান তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য খুব কঠিন ছিল না, কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে জয় হাতছাড়া হয়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারেই ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়ে কথা বলেন তাসকিন।

বাংলাদেশের এই পেসার বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭০ রান অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। আমরা আসলে ভালো খেলতে পারিনি। আমাদের এই রান তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একটি ভালো জুটিও গড়তে পারিনি। একটি জুটি হলেই ম্যাচটা আমাদের দিকে চলে আসত। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বারবার একই ভুল হচ্ছে।’

বোলিংয়ে কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তাসকিন। তার ভাষায়, ‘বোলিংয়ে অন্তত ধারাবাহিকতা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ের কথা বললে, আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটারদেরই ম্যাচটা জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পারেনি।’

ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ছিল। তাসকিনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। টেলর ৮১ এবং আরভিন ৯৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। তাসকিন ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন।

জবাবে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো সূচনা পায় বাংলাদেশ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন তানজিদ। তবে তার বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দল। পুরো ইনিংসে আর কোনো বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ।

তাসকিনের মতে, শুধু কারিগরি দক্ষতার অভাব নয়, বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা ধারাবাহিকতায়। আমাদের ধারাবাহিকতা ও ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রত্যেকেরই সামর্থ্য আছে। যারা ক্রিকেট দেখেন, সবাই জানেন আমাদের ব্যাটাররা ভালো খেলতে পারেন। কিন্তু চাপের মধ্যে দল হিসেবে আমরা অনেক সময় খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। বড় দল হতে হলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই হবে।’

ব্যক্তিগতভাবে তিন উইকেট নিলেও দলের পরাজয়ের সামনে সেই সাফল্যকে অর্থহীন মনে করছেন তাসকিন। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, তিন কিংবা পাঁচ উইকেট নিলেও দল না জিতলে সেই সাফল্যের কোনো মূল্য থাকে না।

এই পরাজয়কে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন তাসকিন। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংসহ দলের সব বিভাগেই উন্নতির প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাটারদের ওপর আস্থা রেখে দ্রুত ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই পেসার।

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে ওঠার আশা ছাড়েননি তাসকিন। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ লিগ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

তাসকিন বলেন, ‘এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, পরের ম্যাচে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। ফাইনালে উঠতে না পারলে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ব। তাই পরের ম্যাচে শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করব।’