ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় পরাজয়ের ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ের বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার ফলে টাইগারদের সামনে আবারও ফাইনালে ওঠার পথ খুলে গেছে। এখন কেবল আফগানিস্তানকে হারালেই হবে না, বরং নির্দিষ্ট ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিতে হবে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দলকে। নেট রানরেটের এই জটিল গাণিতিক সমীকরণ মেলাতে পারলেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিতে পারবে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে আফগানিস্তান। ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ২৯৪ রান সংগ্রহ করে আফগানরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায়। এই শোচনীয় পরাজয়ের ফলে জিম্বাবুয়ের নেট রানরেট নেমে এসেছে -০.৫৯০-এ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের রানরেট বর্তমানে +৩.১৬০ এবং বাংলাদেশের রানরেট দাঁড়িয়েছে -১.৯৮০।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যে দুটি ম্যাচ খেলে একটিতে জয় পেয়েছে। আফগানিস্তানও তাদের প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করেছে। ফলে আগামী বুধবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান, আর এই ম্যাচটিই হয়ে উঠেছে টাইগারদের জন্য ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই।

বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাটিং করার সুযোগ পায়, তবে সমীকরণ কিছুটা সহজ হবে। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে হারাতে হবে। এই ব্যবধানে জিতলে বাংলাদেশের নেট রানরেট দাঁড়াবে -০.৫৮০, যা জিম্বাবুয়ের -০.৫৯০ এর চেয়ে শ্রেয়। তবে জয়ের ব্যবধান ৪০ রান বা তার কম হলে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালে ওঠা সম্ভব হবে না বাংলাদেশের জন্য।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরে ব্যাটিং করলে জয়ের জন্য কত ওভার লাগছে, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। উদাহরণস্বরূপ, আফগানিস্তান যদি ২৫০ রান তোলে, তবে বাংলাদেশকে ২৫১ রানের লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ৪১ ওভার ৩ বলের মধ্যে অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ, ৫১ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করতে হবে টাইগারদের।

আবার আফগানিস্তান যদি ২০০ রান করে, তবে ২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ ওভার ৩ বলের মধ্যে। আর যদি আফগানদের সংগ্রহ ৩০০ রান হয়, তবে ৩০১ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে ৪২ ওভার ২ বলের মধ্যে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই বড় পরাজয়টিই এখন ফাইনালের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ের বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে কেবল জয়ই যথেষ্ট নয়, বরং জয়ের ব্যবধানই ঠিক করে দেবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।