সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিং শৈলীর কথা কার মনে নেই? বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোই ছিল তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এবার ঠিক বাবার মতোই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করলেন তাঁর পুত্র আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে মাত্র ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে মাঠ কাঁপালেন এই ১৮ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার।

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১৯টি চার এবং ৮টি বিশাল ছক্কা। আর্যবীরের এই ব্যাটিং ঝড় এবং দলের অন্যান্যদের অবদানের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান সংগ্রহ করেছে দিল্লি।

গত ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্বের ভার সামলাচ্ছেন আর্যবীর। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে তাঁর অভিষেক ঘটেছিল। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে দেওয়া হয়েছে।

তবে অধিনায়ক হিসেবে এই টুর্নামেন্টের শুরুটা তাঁর জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচে কর্ণাটক দলের বিপক্ষে লড়াই করতে গিয়ে দিল্লি বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সেই ম্যাচে কর্ণাটক তুলেছিল ৪১৮ রান, যার জবাবে দিল্লি মাত্র ২২০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ওই ম্যাচে আর্যবীর ৩২ রান করেছিলেন; ভালো শুরু করলেও ইনিংসটিকে বড় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে আজকের এই ইনিংসের মাধ্যমে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে নিলেন শেবাগপুত্র।

আজকের ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা দারুণ শুরু এনে দেন দলের জন্য। উদ্বোধনী জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেন ৯৮ রান। তবে রূপেশ যাদবের বলে ৪৭ রান করে আউট হয়ে যান অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে দিল্লি কিছুটা চাপে পড়ে।

তা সত্ত্বেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তিনি আরও ৪৮ রান যোগ করেন, যেখানে অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোরবোর্ডে দেখা যায় ৪ উইকেটে ১৭৯ রান।

এরপর শান্তনু যাদবকে সঙ্গী করে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। দীর্ঘ লড়াই শেষে ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে জমা হয়েছে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ ২ উইকেট শিকার করেন। তবে আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পার্থ গুপ্তা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বীরেন্দর শেবাগ তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। এমনকি টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের আজকের এই ইনিংসেও সেই একই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে। ১৪৩ বলের এই ইনিংসে তিনি শুধু চার ও ছক্কা থেকেই সংগ্রহ করেছেন ১২৪ রান।

তবে আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে তিনি মোট ১০৯ রান করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে ভারত ৭ রানে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছিলেন আর্যবীর; রানআউট না হলে তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করতে পারতেন। শেষ ম্যাচে তিনি করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান সংগ্রহ করে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার।

এছাড়া দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি ওয়েস্ট দিল্লি লায়নস দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।