২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নামিবিয়ায় একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি নামিবিয়ার উইন্ডহোকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে টাইগারদের খেলার অভিজ্ঞতা সীমিত। তাই সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এই বিশেষ সিরিজের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, আগামী শনিবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ব্যক্ত করেছেন হাবিবুল।
আগামীকাল (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় দল হিসেবে থাকছে আফগানিস্তান। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিরিজটিকে প্রস্তুতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাবিবুল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের যাবতীয় পরিকল্পনা আবর্তিত হচ্ছে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। ফলে সামনের প্রতিটি ম্যাচই দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ত্রিদেশীয় সিরিজের মতো টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই মানসম্মত ক্রিকেট খেলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
সাবেক এই জাতীয় দলের অধিনায়ক উল্লেখ করেন যে, তিন দলের প্রতিযোগিতায় ফাইনালের আগে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে, যার ফলে ভুল করার অবকাশ খুব কম। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা থাকলেও মাঠের কন্ডিশন অনুযায়ী পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
দলের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখে হাবিবুল বলেন, ‘আমাদের দলটি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এখন ত্রিদেশীয় সিরিজ কম খেললেও সামনে এশিয়া কাপ আছে। তাই এই প্রতিযোগিতা ভালো প্রস্তুতির সুযোগ। ফাইনালের আগে মাত্র দুটি ম্যাচ থাকায় এখানে ভালোভাবে শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আর ভালোভাবে শেষ করার অর্থ শিরোপা জেতা।’
তবে কেবল আমিরাতের এই টুর্নামেন্টেই সন্তুষ্ট নন হাবিবুল; বিশ্বকাপের আগে আরও একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। সেই সিরিজটি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন নামিবিয়ায়। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও নামিবিয়ার পরিবেশ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য তুলনামূলক অপরিচিত। সেখানকার উচ্চতা এবং উইকেটের বৈশিষ্ট্য দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে আলাদা বলে তিনি মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে হাবিবুল বলেন, ‘আমরা নামিবিয়ায় খুব বেশি খেলিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তবে নামিবিয়ার কন্ডিশন কিছুটা আলাদা। সেখানে উচ্চতা বেশি, উইকেটও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নয়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই আমাদের ভালো করতে হবে।’
প্রধান নির্বাচকের মতে, একটি কঠিন গ্রুপে প্রথম ম্যাচেই পিছিয়ে পড়লে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নামিবিয়ায় একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে পারলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে বিষয়টি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। এমন সিরিজ আয়োজন করতে হলে অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সম্মতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী বছরের ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহোকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দল। এই শক্তিশালী দেশগুলোর বিপক্ষে ভালো করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখতে চান না নির্বাচক প্যানেল।
এদিকে আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের পর ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। শীর্ষ দুই দল আগামী ২৩ অক্টোবর ফাইনাল খেলবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা ঘুচানোর সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অতীত সাফল্য খুব একটা উজ্জ্বল নয়। ডেইলি স্টারের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩টি ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাত্র একবার শিরোপা জিতেছে টাইগাররা। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেই সাফল্য এসেছিল। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ফাইনালে পাঁচ উইকেটের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন।
সেই শিরোপা জয়ের পর দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। এবার আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। একই সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রথম ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে চান হাবিবুল বাশার।