শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার পাঁচটি থানার অধীনে থাকা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ deploying করা হয়েছে বিজিবি সদস্যদের।
জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৬৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩২টি, নাচোল উপজেলায় ১৭টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় তিনটি মণ্ডপ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের তুলনায় এবার শিবগঞ্জে দুটি এবং নাচোলে একটি মণ্ডপসহ মোট তিনটি মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার সব পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে ১২৪ জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৮০ জন, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৬০ জন, নাচোল উপজেলায় ৪৫ জন এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্গোৎসব আরও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে পাহারা দেবেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মোট ১৩ প্লাটুন সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৫৩ বিজিবির অধীন সীমান্ত এলাকার ২০টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় আট প্লাটুন এবং ৫৯ বিজিবির আওতাধীন ১৩টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পাঁচ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, “শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ২০টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট আট প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার মনাকষা, গোদাগাড়ী, ওয়াহেদপুর ও হাকিমপুর বিওপির আওতাধীন ১০টি পূজামণ্ডপ এলাকায় চার প্লাটুন এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটবর্তী ১০টি পূজামণ্ডপ এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য সংরক্ষিত হিসেবে রাখা হবে। ইতিমধ্যে সব পূজামণ্ডপ এলাকায় রেকি ও প্রস্তুতিমূলক টহল সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন।”
অন্যদিকে, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন অপু বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, “আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়নের মোট পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।” যে কোনো সন্দেহজনক বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক টহলের পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।”