এবারের শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জন্য একটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।

মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মহালয়া থেকে শুরু করে পূজার পুরো সময়কাল এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হবে এবং মণ্ডপে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালীন সময়ে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নিজেদের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদেরও সচেষ্ট থাকতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী—সবার ওপর নজর রাখতে হবে।” পাশাপাশি যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশে নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। এই সময়ে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

উক্ত সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত কমিশনার (স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।

এছাড়া সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।