মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং ভূমি দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক পরিচয় বা অবস্থান যাই হোক না কেন, তা বিবেচনা না করেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।

উক্ত সভায় ঢাকা মহানগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন কমিশনার।

সভায় তিনি বলেন, “মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলবাজ, তারা যে পরিচয় বা অবস্থানেই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না।”

অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার। স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রতিটি থানা এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন কমিশনার।

সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মো. ফারুক হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরেন।

এই পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং সব থানার অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।