সাধারণত চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের মুখে ক্লাবের ঊর্ধ্বতনদের সমালোচনা খুব একটা দেখা যায় না। তবে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে পরাজয়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ঠিক সেটিই করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে ইউনাইটেডের ভেতরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার একদিন পর এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, রাগ এবং চরম হতাশার বশ হয়েই তিনি ওই কথাগুলো বলেছিলেন। তবে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা যায়নি।

মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয়ের পর ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের অভিযোগ ছিল যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পরেও দলটিকে আরও শক্তিশালী করতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ করেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, ইউনাইটেডের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সসহ ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি আরও বেশি কিছু আশা করেছিলেন।

মার্তিনেজের এই মন্তব্যের পর ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ম্যাচের পর আমি রাগ ও হতাশা থেকে কথা বলেছি। কারণ, আমরা যে ফল চেয়েছিলাম, তা পাইনি। যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন, ফুটবলকে আমি আবেগ, প্রতিশ্রুতি আর জেতার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকে দেখি। আর যখন প্রত্যাশামতো কিছু হয় না, তখন কষ্ট লাগে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ইতিহাস ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার সময়।’

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মার্তিনেজ আরও বলেন, ‘আমার কথাগুলো আমার অনুভূতি এবং এই ক্লাবকে বড় শিরোপার লড়াইয়ে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।’

এদিকে ক্রীড়া পরিচালকসহ ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমালোচনা করার পর ইউনাইটেডে মার্তিনেজের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। স্কাই স্পোর্টস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ এবং ড্রেসিংরুম—উভয় জায়গাতেই তাঁর এই মন্তব্যের কারণে ক্ষোভ ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ম্যানচেস্টারে ফেরার জন্য বিমানে ওঠার সময় তাঁর অন্তত একজন সতীর্থ এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বলে জানা গেছে।

সতীর্থদের সামর্থ্য নিয়ে মার্তিনেজের মন্তব্যের ফলে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্কাই স্পোর্টস নিউজ। অনেকের মতে, তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে দলের বর্তমান খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যথেষ্ট দক্ষ নন।

মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, সেই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, মার্তিনেজের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এই মৌসুমের শেষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও ক্লাবটি তা ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। স্কাই স্পোর্টস নিউজ জানিয়েছে, নতুন সেন্টারব্যাকের পাশাপাশি লেফটব্যাক খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইউনাইটেড।

এর আগে গত গ্রীষ্মের দলবদল উইন্ডোতে আতলেতিকোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মার্তিনেজ। তবে ইউনাইটেডের কাছে সন্তোষজনক কোনো প্রস্তাব না আসায় সেই প্রক্রিয়াটি সফল হয়নি। স্কাই স্পোর্টস নিউজের তথ্যমতে, আতলেতিকোতে যাওয়ার পেছনে তাঁর আর্জেন্টাইন সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে খেলার প্রবল আকাঙ্ক্ষাও কাজ করেছিল।