ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দলবদলের নীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার এই মন্তব্যের ফলে ক্লাবের অন্দরমহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হলেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ম্যাচে হারের পর সৃষ্ট হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই তিনি কথাগুলো বলেছিলেন, তবে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বা ক্ষমা চাইতে রাজি নন। বরং ইউনাইটেডকে পুনরায় সাফল্যের উচ্চতায় ফিরিয়ে নেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে আতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় ইউনাইটেড। ম্যাচ পরবর্তী সময়ে ক্লাবের দলবদল পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মার্তিনেজ। বিশেষ করে ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আরও বেশি খেলোয়াড় দলে আনা প্রয়োজন ছিল। ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি আরও অনেক বেশি প্রত্যাশা করেছিলেন বলেও জানান এই ফুটবলার।

এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন মার্তিনেজ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘গতকাল আমার মন্তব্য নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কী বলেছি এবং কেমন অনুভব করছি, তা নিয়ে কিছু কথা জানাতে চাই। ম্যাচের পর আমরা যে ফল চেয়েছিলাম, তা না পাওয়ার ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই কথাগুলো বলেছিলাম।’

২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার তার এমন প্রতিক্রিয়ার পেছনে ক্লাবের প্রতি তার গভীর আবেগ ও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ‘যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন কতটা আবেগ, দায়বদ্ধতা আর জয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি ফুটবল খেলি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের হয়ে প্রত্যাশিত ফল না পেলে কষ্ট হয়।’

তবে ক্ষোভের কথা স্বীকার করলেও আগের সমালোচনার কথা থেকে পিছু হটলেন না মার্তিনেজ। বরং ক্লাবের কাছে কেন তিনি আরও বেশি প্রত্যাশা করেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমার কথাগুলো আমার অনুভূতিরই প্রতিফলন। আমি কতটা চাই এই ক্লাব আবার বড় বড় শিরোপার জন্য লড়ুক, সেটিই বোঝাতে চেয়েছি।’

মার্তিনেজের মতে, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ইউনাইটেডকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। তবে তিনি কেবল ক্লাব কর্তাদের ওপরই দায় চাপাতে চান না। তার মতে, খেলোয়াড়দেরও নিজেদের পারফরম্যান্সের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে মার্তিনেজ বলেন, ‘সবার আগে মাঠে পারফর্ম করার দায়িত্ব আমাদের, খেলোয়াড়দের। সেই দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি নিজেকেই সামনে রাখছি। নিজেদের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু দাবি করতে হবে এবং ইউনাইটেডকে আবার শীর্ষে ফেরাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সতীর্থদের পাশাপাশি কোচ মাইকেল ক্যারিকের প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেছেন মার্তিনেজ। তার বিশ্বাস, দলের মধ্যে ঐক্য ও দায়বদ্ধতা থাকলে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। শুরু থেকেই তার একমাত্র লক্ষ্য ইউনাইটেডের হয়ে জয় ছিনিয়ে আনা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, মার্তিনেজের এই প্রকাশ্য মন্তব্যে ইউনাইটেডের পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কাই স্পোর্টস। ওই সংবাদমাধ্যমটির দাবি, স্পেন থেকে ফেরার বিমানে ওঠার সময় অন্তত একজন সতীর্থ তার মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। মার্তিনেজের বক্তব্যে বর্তমান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় যথেষ্ট দক্ষ নন—এমন ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন তার কিছু সতীর্থ, যা তারা ভালোভাবে নেননি।

তবে এই সমালোচনার মুখেও ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স। স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তার মন্তব্যের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন অবস্থায় রয়েছে ইউনাইটেড। এমন সংকটময় মুহূর্তে মার্তিনেজের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং নিজের অবস্থানে অনড় থাকা ক্লাবটির চলমান অস্থিরতায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।