মাঠের ব্যর্থতা আর একের পর এক পরাজয়ের ধাক্কায় এবার ক্লাবের দলবদল নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে শোচনীয় হারের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। মার্তিনেজের মতে, গত মৌসুমের সাফল্যের পর ইউনাইটেডের সামনে আরও শক্তিশালী একটি দল গড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু দলবদলের বাজারে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্লাব।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে আতলেটিকোর মাঠে ২-০ গোলে পরাজিত হয় ইউনাইটেড। ম্যাচের শুরুতেই বিপর্যয় নেমে আসে ইংলিশ ক্লাবটির ওপর; মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের মাথায় পাবলো বারিওসের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে লেনি ইয়োরোর লাল কার্ডের কারণে দল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আদেমোলা লুকমানের গোলে জয় নিশ্চিত করে আতলেতিকো। এই পরাজয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন হয়ে পড়ল ইউনাইটেড।

ম্যাচ শেষে অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘খুবই বাজে, সত্যিই খুব বাজে। নিজেকে অনেক সংযত রাখতে হচ্ছে। তবে কখনো কখনো মাঠের পারফরম্যান্সেই ক্লাবের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন দেখা যায়।’

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার গৌরব অর্জন করেছিল ইউনাইটেড। সেই সাফল্যের পর দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করেছিলেন মার্তিনেজ। তবে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ক্লাবের তৎপরতা তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত মৌসুমটা আমাদের দুর্দান্ত কেটেছে। এরপর আমরা ক্লাবের ওপরের পর্যায় থেকে আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আরও খেলোয়াড় আনা প্রয়োজন ছিল। অন্য অনেক দলই নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে।’

শুধুমাত্র সাধারণ অসন্তোষ প্রকাশেই থেমে থাকেননি মার্তিনেজ; তিনি ইউনাইটেডের ফুটবল পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন জেসন উইলকক্স।

মার্তিনেজের ভাষায়, ‘আমাদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু আশা করি। সত্যিটা বলতেই হবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদেরও আরও ভালো করতে হবে। তবে এ ধরনের ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।’

উল্লেখ্য, গ্রীষ্মের দলবদলে কার্লোস বালেবা, ইউরি তিলেমানস ও আন্দ্রে সান্তোসের মতো খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে ইউনাইটেড। তবে এই তিনজনই মিডফিল্ডার। রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় শক্তি বাড়াতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বাঁ প্রান্তের রক্ষণ এবং আক্রমণভাগে নতুন খেলোয়াড় না আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।

টানা ব্যর্থতার ফলে ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে বারবার কোচ পরিবর্তন করাকে সমস্যার সমাধান মনে করেন না মার্তিনেজ।

তিনি বলেন, ‘বারবার কোচ বদলানো যায় না। ক্লাবের অন্য জায়গাগুলোর কী হবে? এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। আজ রাতে কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া সহজ। কিন্তু অন্য দিকগুলোও দেখতে হবে।’

মার্তিনেজের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ম্যাচ শেষে প্রশ্নের মুখে পড়েন কোচ মাইকেল ক্যারিক। তিনি জানান, তিনি তখনো তার শিষ্যের পুরো সাক্ষাৎকারটি শোনেননি, তাই বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন।

তবে হারের হতাশা থেকেই মার্তিনেজ এমন কথা বলে থাকতে পারেন বলে মনে করেন ক্যারিক। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো সাক্ষাৎকার দেখিনি, শুধু কিছুটা শুনেছি। ম্যাচের পর আবেগের কারণেও এমন মন্তব্য আসতে পারে। আগে বিষয়টি ভালোভাবে জানতে হবে।’

অন্যদিকে, ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি মনে করেন, প্রকাশ্যে ক্লাব কর্তাদের সমালোচনা করে সীমা ছাড়িয়ে গেছেন মার্তিনেজ। রুনির মতে, এ ধরনের অসন্তোষ দলের ভেতরেই আলোচনা করা উচিত ছিল।

অ্যামাজন প্রাইমে রুনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে কিছুটা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এসব বিষয় কোচের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত এবং ক্লাবের ভেতরেই রাখা উচিত।’

তবে ইউনাইটেডের আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন—মার্তিনেজের এই বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক একমত রুনি। তাঁর মতে, আক্রমণ ও রক্ষণভাগে নতুন খেলোয়াড় দরকার। কিন্তু প্রকাশ্যে সতীর্থদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা দলের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না।

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে ১৩তম স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম নয়টি ম্যাচের মাত্র দুটিতে তারা জয়লাভ করেছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর) লিডস ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে যাবে মাইকেল ক্যারিকের দল।