ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দলবদল নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। শুরুতে নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কোচ মাইকেল ক্যারিকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি স্বীকার করেছেন যে, হারের তীব্র হতাশায় নিজের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি ভুল সময় ও স্থান নির্বাচন করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় ইউনাইটেড। ম্যাচ পরবর্তী সময়ে ক্লাবের দল গঠন এবং নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহের কৌশলের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন মার্তিনেজ। বিশেষ করে ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তিশালী দল গড়তে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাশাপাশি কোচ মাইকেল ক্যারিককে পর্যাপ্ত সমর্থন দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
বিতর্কিত সেই মন্তব্যের পরদিন ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। সেখানে তিনি ক্ষোভ ও হতাশার কথা স্বীকার করলেও ক্ষমা চাননি। তবে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় এক বিবৃতিতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। জানা গেছে, এর আগে কোচ মাইকেল ক্যারিক, ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স এবং প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে মার্তিনেজ লিখেছেন, ‘আজ ক্লাবের নেতৃত্ব ও কোচের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। আলোচনাটি খুব ইতিবাচক ছিল। মঙ্গলবারের ম্যাচের পর যা ঘটেছে, তা নিয়ে আমরা খোলামেলা কথা বলতে পেরেছি এবং নিজেদের মতামত বিনিময় করেছি।’
নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে, আমি আবেগপ্রবণ মানুষ এবং ফুটবলকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। হারের হতাশা থেকে এমন এক সময়ে ও জায়গায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছি, যা হয়তো ঠিক ছিল না। সে জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’
তবে লক্ষণীয় যে, ক্ষমা চাইলেও দলবদল নীতি নিয়ে করা আগের সমালোচনাগুলো তিনি প্রত্যাহার করেছেন বলে কোনো কথা বলেননি। তার ক্ষমা চাওয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বক্তব্য প্রকাশের পদ্ধতি এবং সময়। একই সঙ্গে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার স্বীকার করেছেন যে, তার মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলেই এই ক্লাব সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে। আমি বুঝতে পারছি, ওই মুহূর্তে আমার কথাগুলো সেই ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করেনি।’
ক্লাবকে পুনরায় সাফল্যের উচ্চতায় ফিরিয়ে আনাই এখন সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ইউনাইটেডের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টার ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, এখন সব বিতর্ক পেছনে ফেলে দলের ঐক্য এবং মাঠের পারফরম্যান্সের দিকেই মনোযোগ দিতে চান তিনি।
এদিকে রয়টার্সকে ইউনাইটেডের একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্তিনেজ সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মনে করছে বিষয়টি এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করবে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যদিও স্কাই স্পোর্টসসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাকে জরিমানা করেছে ইউনাইটেড।
অন্যদিকে, মাঠের পারফরম্যান্সে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে তালিকার ১৩তম স্থানে রয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে লিগে এটিই তাদের সবচেয়ে খারাপ শুরু। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি এই ইংলিশ ক্লাবটি।
আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।