ম্যাচের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ভারতের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। রান তাড়া করতে নেমে প্রথম তিন ওভারেই ভারতের স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৫০ রান। যার বড় অংশটিই এসেছে স্যামসনের ব্যাট থেকে। মাত্র ১৮ বল খেলে (যার মধ্যে একটি নো ডেলিভারি ছিল) তিনি একাই সংগ্রহ করেন ৪৭ রান। অন্য প্রান্তে তখন ব্যাটিংয়ের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন আরেক আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা।
তবে এমন দুর্দান্ত সূচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভারতের ফলাফল হয় অত্যন্ত হতাশাজনক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্ধারিত ২৪৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত আটকে যায় ২২৩ রানে। কিমো পলের নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে আত্মসমর্পণ করতে হয় ভারতীয়দের। শেষ পর্যন্ত ২৪ রানের জয় নিয়ে সিরিজের চতুর্থ টি–টুয়েন্টিতে জয়ী হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যার ফলে সিরিজ এখন ২–২ সমতায় দাঁড়িয়েছে।
হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় পঞ্চম ওভারে। কিমো পলের প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরানো হয় স্যামসনকে। ২৩ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৬ রান করেন তিনি। ভারতের ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
পল তাঁর প্রথম ওভারে শুধু স্যামসনকেই নয়, ঈষাণ কিষাণকেও আউট করেন। তবে শ্রেয়াস আইয়ার, অভিষেক শর্মা এবং তিলক বর্মাদের মতো টি–টুয়েন্টি অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দলে থাকায় ভারতের জয়ের সম্ভাবনা তখনও যথেষ্ট ছিল।
কিন্তু ভাগ্য আজ ভারতের সহায় ছিল না। ১১ বলে ১৬ রান করে স্প্রিঞ্জারের বলে আউট হন শ্রেয়াস আইয়ার। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা বড় শট খেলতে গিয়ে হিমশিম খান এবং শেষ পর্যন্ত ১২তম ওভারে গুড়াকেশ মোতির বলে ২৯ রান করে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচটিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান তিলক বর্মা ও নীতিশ কুমার। তাঁদের প্রচেষ্টায় ১৭ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২০০ রান ছাড়িয়ে যায়। তবে ১৯তম ওভারে আবারও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ান কিমো পল। বোলিংয়ে ফিরে মাত্র চার বলের ব্যবধানে নীতিশ, প্রিন্স যাদব ও অক্ষর প্যাটেলকে আউট করেন তিনি। পুরো ম্যাচে চার ওভারের কোটায় ৪১ রানে ৫ উইকেট নেন পল। শেষ ওভারে অর্শদীপ সিং রিটায়ার্ড আউট হয়ে মাঠ ছাড়লে তিন বল বাকি থাকতেই ভারতের ইনিংস শেষ হয়।
এর আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান আড়াই শরের কাছাকাছি পৌঁছে যায় অধিনায়ক শাহ হোপ এবং শারফেন রাদারফোর্ডের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কারণে। ইনিংসের শেষ দুই বলে দুটি ছক্কা মেরে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। ৫০ বলে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কার এই সেঞ্চুরিটি সিরিজে তাঁর দ্বিতীয়। তাঁর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে রাদারফোর্ড ২৬ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ করবে পঞ্চম ও শেষ টি–টুয়েন্টি ম্যাচটি, যা আগামী শনিবার বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে।
স্কোরকার্ড:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২৪৭/৩ (হোপ ১০২*, রাদারফোর্ড ৪৯*, হেটমায়ার ৩৩; যাদব ১/৩৬)।
ভারত: ১৯.৩ ওভারে ২২৩ (স্যামসন ৫৬, তিলক ৪৩, নীতিশ ৪১; পল ৫/৪১)।
ফলাফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাই হোপ।