একটি অসাধারণ ইনিংস কেবল ম্যাচই জেতায় না, বরং একজন ক্রিকেটারের সামগ্রিক পরিচয়কেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নিউ চণ্ডীগড়ে ভারতের বিপক্ষে শাই হোপের ১৬২ রানের ইনিংসটি ঠিক তেমনই এক উদাহরণ। ১৪৩ বলে করা এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি যেভাবে ম্যাচটিকে জয়ের মুখে নিয়ে এসেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনন্য। ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ভক্তদের অনেকেই এই ইনিংসটিকে হোপের ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে অভিহিত করছেন।

গতকাল অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ভারতের সংগ্রহ ছিল বিশাল—৩৫১ রান। এই বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেন হোপ এবং ম্যাচ শেষ না করে মাঠ ছাড়েননি তিনি। তবে এই লড়াই সহজ ছিল না; কুঁচকিতে ব্যথার কারণে তিনি বেশ চোট নিয়েই ব্যাটিং করছিলেন এবং অনেক রান খুঁড়িয়ে নিয়েছেন। ইনিংসটি তিনি অত্যন্ত কৌশলে গড়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ২৭ থেকে ৪১ ওভারের মধ্যে একটি বাউন্ডারিও মারেননি তিনি।

সেই সময়ে তিনি লেগ সাইডে বল ঠেলে সিঙ্গেল নিয়েছেন এবং নিয়মিত স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। শরীরের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি ব্যাটিং চালিয়ে যান, যার ফলে এক পর্যায়ে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১০০-এর নিচে নেমে গিয়েছিল। তাঁর এই ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির শৈলীর কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো।

ম্যাচ শেষে হোপ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই ইনিংসটি গড়তে ধোনির পরামর্শ বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘একবার মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে দারুণ একটি কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, আপনি যতটা সময় আছে বলে ভাবেন, আসলে তার চেয়েও বেশি সময় আপনার হাতে থাকে। তাই চূড়ান্ত ফল নিয়ে বেশি ভাববেন না। প্রক্রিয়ার দিকে মন দেবেন। ম্যাচটাকে যতটা সম্ভব ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। আর শেষ দিকে বাউন্ডারি বের করার পথ খুঁজতে হবে।’

ধোনির সেই মন্ত্রই মাঠের লড়াইয়ে কাজে লাগিয়েছেন হোপ। উল্লেখ্য, ব্যাটিংয়ের আগে তিনি টানা ৫০ ওভার উইকেটকিপিং করেছেন। অর্থাৎ, পুরো ম্যাচে প্রায় ১০০ ওভারই তিনি মাঠে ছিলেন। রান তাড়ায় উইকেটকিপার ও অধিনায়ক হিসেবে তাঁর এই ১৬২ রানের ইনিংসটি এখন সর্বোচ্চ।

এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো পুরুষ ব্যাটসম্যানের সফল রান তাড়ায় করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ভেঙেছেন। এর আগে ১৯৯৩ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রায়ান লারা ১৫৩ রান করেছিলেন, যা দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল। এছাড়া সফল রান তাড়ায় কোনো অধিনায়কের করা ওয়ানডে ব্যক্তিগত ইনিংস হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই সিরিজে ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ২২৩ রান করে সর্বোচ্চ স্থানটি ধরে রেখেছেন।

ভারতের বিপক্ষে হোপের এই আধিপত্য নতুন কিছু নয়। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে ২৮ ইনিংসে ৫৫.০৪ গড়ে রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে ৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে। মজার বিষয় হলো, তাঁর সবকটি সেঞ্চুরিই এসেছে ভারতের মাটিতে। গতকালের এই ইনিংসের মাধ্যমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২১তম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন হোপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তাঁর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি (২৫টি) আছে কেবল ক্রিস গেইলের।