ক্রিস গেইল এবং এভিন লুইসের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শাই হোপ। ভারতের বিপক্ষে এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরির মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনটি শতক করার বিরল কীর্তি অর্জন করেছেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার তিনটি সেঞ্চুরির প্রতিটিই ছিল অপরাজিত ১০২ রানের।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই অনন্য রেকর্ডটি স্পর্শ করেন হোপ। মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন তিনি, যেখানে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কার প্রদর্শনী ছিল। তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইল, এভিন লুইস এবং শাই হোপের। তবে এই ইনিংসটির মাধ্যমে ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার এককভাবে তালিকার শীর্ষে উঠে গেলেন।

শাই হোপের এই রেকর্ডের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত মিল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার তিনটি সেঞ্চুরির প্রতিটিই অপরাজিত ১০২ রানের। তার প্রথম শতকটি এসেছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, যেখানে তিনি ৫৭ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন।

দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্মৃতিও খুব সাম্প্রতিক। মাত্র পাঁচ দিন আগে, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাঁচিতে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এক ঐতিহাসিক জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন হোপ। ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য ১৮ দশমিক ৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই তা পেরিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া হিসেবে গণ্য হয়েছে।

হায়দরাবাদের ম্যাচেও ভারতীয় বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন হোপ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। প্রথম উইকেটে জুয়েল অ্যান্ড্রুর সঙ্গে ৫২ রানের একটি জুটি গড়েন তিনি। অ্যান্ড্রু ১৬ বলে ২১ রান করে আউট হয়ে ফিরলেও থামেননি ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

পরবর্তীতে শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রান সংগ্রহ আরও বাড়িয়ে নেন হোপ। হেটমায়ার ১২ বলে ৩৩ এবং পাওয়েল ১৭ বলে ২৪ রান করেন। ইনিংসের শেষ দিকে শেরফান রাদারফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর প্রবল চাপ ধরে রাখেন তিনি।

রাদারফোর্ড ২৬ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৯ রান করেন। অন্যদিকে, ইনিংসের শেষ বলে নিজের শতক পূর্ণ করে অপরাজিত থাকেন হোপ। তাদের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভারতের সামনে ২৪৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড়িয়ে থাকে।

ভারতের হয়ে অক্ষর প্যাটেল, প্রিন্স যাদব ও অর্শদীপ সিং একটি করে উইকেট শিকার করেন।

শুধুমাত্র সেঞ্চুরির রেকর্ডই নয়, এই ইনিংসের মাধ্যমে আরও একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন শাই হোপ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রান পূর্ণ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন রভম্যান পাওয়েল, নিকোলাস পুরান ও ব্র্যান্ডন কিং।

চলতি ভারত সফরে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য ছন্দে রয়েছেন হোপ। ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরির পর টি-টোয়েন্টিতেও দুটি শতক করলেন তিনি। সব মিলিয়ে এবারের ভারত সফরে তার মোট সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন চারটি।