গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা। ওয়ানডেতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ; প্রথমবারের মতো চারশ রানের মাইলফলকও ছুঁল তারা।

ভারতের বিপক্ষে যেকোনো দলের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস। এর চেয়ে বেশি রান কেবল দুইটি—২০১৫ সালে ওয়াংখেড়েতে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৮/৪ এবং ২০০৯ সালে রাজকোটে শ্রীলঙ্কার ৪১১/৮।

টস জিতে ভারত বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে কিয়াসি কার্টিকে ৯ রানে ফিরিয়ে দিলেও সেই সিদ্ধান্তের সুফল পায়নি স্বাগতিকরা। ক্যাম্পবেলের পাল্টা আক্রমণে প্রথম ১০ ওভারেই ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মাত্র ২৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পর ৬৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যাম্পবেল। ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটি দ্রুততম ওয়ানডে শতক। আগের রেকর্ডটি ছিল রিকার্ডো পাওয়েলের—৭২ বলে। শেষ পর্যন্ত ৬৮ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১০১ রানে থামেন ক্যাম্পবেল।

ক্যাম্পবেল ফিরে গেলেও ভারতের স্বস্তি মেলেনি। অধিনায়ক হোপ ও জাঙ্গু তৃতীয় উইকেটে ১৮২ রান যোগ করেন। ৯০ বলে শতক ছোঁয়া হোপ ৯৪ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ১০৪ রান করেন। কুলদীপ যাদব তাঁকে ফেরান।

এরপর ইনিংসের গতি আরও বাড়ান জাঙ্গু। ৪৪ বলে ফিফটি করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাত্র ৭০ বলেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত ৭৭ বলে ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১১৪ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে ফেরেন তিনি।

ক্যাম্পবেল, হোপ ও জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষদের ওয়ানডেতে একই ইনিংসে তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির এটি মাত্র ষষ্ঠ ঘটনা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য প্রথম। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা তিনবার, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া একবার করে এই কীর্তি গড়েছিল। ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ ও ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি ছিল পঞ্চম ঘটনা।

শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা লাগাম টানে ভারত। ৪০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৩২৯। পরের ১০ ওভারে তারা যোগ করে ৭৬ রান, হারায় আরও চার উইকেট। রোস্টন চেজ ২৫ বলে ২৯ এবং শামার জোসেফ ৮ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন গুরনুর ব্রার, কুলদীপ ও জাদেজা। তবে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন গুরনুর—১০ ওভারে ৯৬ রান দেন। প্রসিধ কৃষ্ণা নেন একটি উইকেট।

অভিষেক ম্যাচটা ভুলে যেতে চাইবেন আকিব নবী। ৮.৫ ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে ৮৪ রান দেন তিনি। ওয়ানডে অভিষেকে কোনো ভারতীয় বোলারের সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড এটি। ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কারসান ঘাভরি দিয়েছিলেন ৮৩ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ ছিল ৩৮৯। ২০১৯ সালে গ্রেনাডায় ইংল্যান্ডের ৪১৮ রান তাড়া করতে গিয়ে সেই স্কোর করেছিল ক্যারিবীয়রা। গুয়াহাটিতে সাত বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো চারশ পেরোল তারা।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে আট উইকেটে জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারত। সিরিজে সমতা ফেরাতে তাই ভারতের সামনে ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।