রাঁচিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে জয়লাভ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে বোলারদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ক্যারিবীয়রা যেভাবে রান সংগ্রহ করেছে, তাতে জন্ম নিয়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড ও কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা; ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেই তারা ২৫৯ রান তাড়া করে জয়ী হয়েছিল।
টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ বা তার বেশি রান তোলার হিসেবে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। এই দুই দলই এখন পর্যন্ত চারবার ২৫০ বা তার বেশি রান সংগ্রহ করেছে। তবে এই তালিকায় শীর্ষে থাকা ভারত এখন পর্যন্ত সাতবার এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সংগ্রহের রেকর্ড এখন ২৪৯/৫। এর আগে ২০১৬ সালে ফ্লোরিডার লডারহিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪৪ রান ছিল ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ, তবে সেই ম্যাচে ১ রানে হেরেছিল ভারত।
রাঁচির এই ম্যাচে ৩৮.৩ ওভারে দুই দল মিলিয়ে মোট ৫০১ রান তুলেছে, যা টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে নথিভুক্ত হলো। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে মোট ৫১৭ রান হয়েছিল, যা এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নজর কাড়েন শাই হোপ, যিনি মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেন। ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জনসন চার্লস ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে দ্রুততম রেকর্ডটি গড়েছিলেন।
ম্যাচটিতে দুই দল বাউন্ডারি থেকে মোট ৩৮২ রান সংগ্রহ করেছে, যা টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাউন্ডারি থেকে ২০৪ রান করেছে, যা এক ইনিংসে তাদের সর্বোচ্চ এবং রান তাড়া করতে নেমে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২০২৫ সালে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে বুলগেরিয়ার ২১৪ রানের রেকর্ডটি এখনো শীর্ষে।
টি-টোয়েন্টিতে উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরির অনন্য রেকর্ড এখন শাই হোপের দখলে। তার নামের পাশে এখন দুটি সেঞ্চুরি। গত বছর বাসেটরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন। এছাড়া মাত্র ৬ দিন আগে নিউ চণ্ডীগড়ে ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৬২ রান করেছিলেন হোপ, যা উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে ১৫০ রানের ইনিংস খেলার পর টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ছয় দিন—যেকোনো ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কম সময়ের ব্যবধান।
ভারতের বিপক্ষে ২০টি ছক্কা মেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যা। ২০১৬ সালে লডারহিলে তারা ২১টি ছক্কা মেরেছিল। এক ম্যাচে অন্তত ২০টি ছক্কা মারার ঘটনা ক্যারিবীয়দের জন্য এটি চতুর্থবার।
শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের ১২০ রানের জুটিটি ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। তবে চতুর্থ বা তার পরের উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রান করেছিলেন রাদারফোর্ড।
বোলারদের জন্য ম্যাচটি ছিল দুঃস্বপ্নের। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনাররা প্রতি ওভারে গড়ে ১৪.৬৪ রান দিয়েছেন, যা ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে বোলিং (অন্তত ১০ ওভার)। ভারতের বাঁহাতি স্পিনাররা ৭.৩ ওভারে দিয়েছেন ১১৬ রান, যার ইকোনমি রেট ১৫.৪৬। অন্তত পাঁচ ওভার বল করা কোনো দলের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইকোনমি রেট।
ম্যাচটিতে সঞ্জু স্যামসনের ৮২ ও হোপের অপরাজিত ১০২—দুই উইকেটকিপার মিলে মোট ১৮৪ রান করেছেন। টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে উইকেটকিপারদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মিলিত সংগ্রহ এটি। ২০২২ সালে বুলগেরিয়া-সার্বিয়া ম্যাচে হয়েছিল ১৮৮ রান। তবে একই টি-টোয়েন্টিতে দুই উইকেটকিপারের ৮০ বা তার বেশি রান করার ঘটনা এই প্রথমবার সামনে এল।