জয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজন ছিল ২৫০ রান। তবে ম্যাচের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ; প্রথম ওভারেই ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এমন কঠিন পরিস্থিতির পর বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল ক্যারিবীয়দের জন্য। কিন্তু শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।

দুই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রদর্শনীতে মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের মোড়। হোপের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং রাদারফোর্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে ভারতের বিশাল সংগ্রহও যথেষ্ট প্রমাণিত হলো না। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাঁচিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারত ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের পাহাড় গড়েছিল। তবে সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেটে ২৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারী দল। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় ক্যারিবীয়রা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে কামিল পুরানকে আউট করেন মায়াঙ্ক যাদব। ঠিক তার পরের বলেই তার শিকার হন শিমরন হেটমায়ার। দলের সংগ্রহ তখন মাত্র ৫ রান।

তবে সেই বিপর্যয় বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি অধিনায়ক হোপ। রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। ১৩ বলে ২৪ রান করে পাওয়েল আউট হলে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর শেরফেন রাদারফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন হোপ। দুজনের ৫৪ বলে ১২০ রানের এক বিশাল জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।

১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে রাদারফোর্ড আউট হয়ে ফিরলেও ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ পৌঁছে গিয়েছিল ১৭৮ রানে। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৩৭ বলে সাতটি চার ও সাতটি ছক্কার সাহায্যে ৮৪ রান করেন।

তখনো জয়ের জন্য ৭২ রান প্রয়োজন ছিল ক্যারিবীয়দের। কিন্তু রোমারিও শেফার্ড মাঠে নামার পর থেকেই আক্রমণ শুরু করায় সেই লক্ষ্য আর কঠিন মনে হয়নি। মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন তিনি। হোপের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন শেফার্ড।

অন্যদিকে, ৪৫ বলে ছয়টি চার ও নয়টি ছক্কার সাহায্যে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক হোপ। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের রুখতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেল ৩.৩ ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান।

এর আগে ভারতের বিশাল সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ৪১ বলে নয়টি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৮২ রান করেন তিনি। ঈশান কিষানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৯৭ রান যোগ করেন স্যামসন। কিষান ২২ বলে ৪৩ রান করেন।

মাঝের ওভারগুলোতে রোস্টন চেজের ঘূর্ণি বোলিংয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। এই স্পিনার ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তবে শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা।

দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রান আসে। আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করে আউট হলেও তিলক ভার্মা সমানসংখ্যক বলে ৪৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৪৯ রান তোলে ভারত।