পৃথিবীর মানুষেরা ভালোবাসাবাসি শেষে ঢুকে পড়ে; মূলত উৎপাদনমুখী বিশ্বের অভিমুখে যেমন ধরো, পানের বরজ অথবা ভাঁট-ধুন্দুল হতে পারে তার বা তাহাদের চোখসমুদ্রের মাঝে খুঁজে ফেরে হারানো বহুপত্রী পুষ্পবিতান।
হাসনাত মোবারকের কাব্যিক ভাষায় প্রকৃতির এক অনন্য বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁর লেখনীতে শরতের স্নিগ্ধতা ও জলজ প্রকৃতির মিশেল ফুটে উঠেছে এভাবে—
“ফুটেছে ফুল এই শরতে ঘাসজলজে; পাটগন্ধের মিশেলেবসেছে পাখিসভা মিঠেপড়া রোদে জলের মোকাম তাড়িয়ে তাড়িয়েদৃশ্য কত আকাশের ক্রাডলে ইতিউতি ভাসে মেঘমিথ ছড়ানো রঙে পুষ্পরেণু ওড়েহিজলদিগা ধানে জলরঙের বিবিধ আশ্রয়ে।”
স্মৃতি এবং পরাবাস্তবতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর কবিতায়। সময়ের ব্যবধান এবং অনুভূতির গভীরে গিয়ে কবি লিখেছেন—
“ফুটেছে ফুল বহুকাল হলোধরো অথবা স্পর্শে বায়ুউড়াইয়া দাও অথবা নজরানা নিয়াউপস্থিত করো পরাবাস্তব পাখিঅতিক্রান্ত চাপ; আকাশ ভরা প্রস্তাবেগান হয়ে উড়ে এল আমাদেরএকমাত্র বেদনাতুতো ভাই—নিরীহ চাঁদতার চারদিকে মৌন পাখিদলএর মধ্যেই মাঘনিশীথের আরশিতেফিক করে হেসে উঠল সাবালিকা—নিশ্চল তার স্বপ্নগ্রস্ত চোখ বরাবর;নেশাগ্রস্ত পাল দিগ্বিদিক ছুটে যায়ততবার শাসিত হই জলতরঙ্গে।”
শহুরে পরিবেশ এবং প্রকৃতির বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে চন্দ্রিমা উদ্যান ও কুড়িলের বর্ণনায়। সেখানে একটি বিশেষ ফুলের উপস্থিতি কবি এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন—
“চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে কুড়িলের আয়তনমেপে বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেলএকটি বাহারি ফুল, আবরণে হলুদ”
ক্লান্ত পথ আর সন্ধ্যার বিষণ্ণতার মাঝে অমুদ্রিত কথাগুলোর দীর্ঘশ্বাস যেন পাঠকের মনে দোলা দেয়। কবি বর্ণনা করেছেন—
“অবসন্ন পথ, উড়ছে লিকারের ধোঁয়াকী ভেবে এই সন্ধ্যেবেলাজানানো হলো, তার গাছভর্তি অমুদ্রিত কথাগুলোফেলছে দীর্ঘশ্বাসের হাওয়া—”
প্রত্যাশা এবং পুষ্পের পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে কবিতার গতি এগিয়েছে। কবি লিখেছেন—
“প্রত্যাশার ভেতর পারদ,পত্রের ভেতর থেকে পুষ্পউঁকি মারল আবারও।”
পরিশেষে, মাঠের পরিমাপ এবং অন্ধকারের বিপরীতে সময়ের কাঁটার প্রত্যাশা ও রোদের ছন্দের এক সংমিশ্রণ দেখা যায় তাঁর লেখনীতে—
“মাঠের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জানা হয়ে গেলেআলোয় ভাসা মুহূর্ত আর ঢিলছোড়া অন্ধকার বরাবর...বারবারই মূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেদেয়ালঘড়ির কাঙ্ক্ষিত কাঁটা;ফাইলবন্দী যত গোলাপবিলোড়িত পথে হাট করে খুলে দেয়রোদের গতিছন্দ।”