সাহিত্যের আঙিনায় নতুন এক সংবেদনশীল প্রকাশ নিয়ে হাজির হয়েছেন কবি সুকৃতি মৃত্তিকা। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে জীবনের ক্ষয় এবং অবহেলায় হারিয়ে যাওয়া জিনিসের এক করুণ উপাখ্যান। তাঁর সাম্প্রতিক কবিতা ‘সবকিছুই ভাঙারি, কাকা’-তে কবি অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে সময়ের আবর্তে মূল্যবান জিনিসগুলোও একদিন মূল্যহীন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে এসে ঠেকে।
কবিতাটির প্রতিটি পঙ্ক্তিতে মিশে আছে এক ধরণের হাহাকার এবং বাস্তবতার কঠিন চিত্র। কবি লিখেছেন, “শূন্যমুখ,—ছিপি খোলা বোতল:রূপচাঁদা, তির, সুরেশ...ছিলেই তো বেশ:টইটম্বুর, চকচকা...এখন ভসকানো ফাঁকা!” এখানে তিনি দেখিয়েছেন যে, একসময় যা ছিল পূর্ণ এবং উজ্জ্বল, তা এখন কেবলই শূন্যতার প্রতীক।
বস্তুর ক্ষয় এবং তার সাথে মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলতে কবি আরও বলেন, “দরজায় হয়েছ জড়ো:ভাঙা, ফাটা, প্লাস্টিক...বলো, কেজি কত টাকা?” এই লাইনের মাধ্যমে সমাজের এক নির্মম সত্য ফুটে উঠেছে, যেখানে জিনিসের গুণগত মানের চেয়ে তার ওজন বা কেজির দামই হয়ে ওঠে মুখ্য।
কবিতার শেষাংশে কবি জীবনের এক গভীর দর্শন তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “রূপটুকু হারালে চাঁদ,তিরহীন হলে ধনুক,সু-শূন্য হয়ে গেলে রেশ...সবকিছুইভাঙারি হয়ে যায়,কাকা”। এই পঙ্ক্তিগুলোর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, রূপ, কার্যকারিতা বা গুণ হারিয়ে গেলে পৃথিবীর সবকিছুরই পরিণতি হয় অবহেলা এবং বিলুপ্তি। সুকৃতি মৃত্তিকার এই কবিতাটি পাঠকদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্থায়িত্ব বলে কিছু নেই; সবকিছুই একদিন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভাঙারির স্তূপে মিশে যায়।