বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী। তবে স্বপ্নের সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে পছন্দের দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা, বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা, জটিল আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ভিসা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে প্রচুর প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়। এই সকল বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যেই ব্রিটিশ কাউন্সিল ও মুক্তকণ্ঠ যৌথভাবে আয়োজন করছে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার’।
আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার ও শনিবার) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে চলবে ১০ দিনব্যাপী একটি অনলাইন আয়োজন, যাতে সবাই অংশ নিতে পারে।
এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এডুকেশন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘মেন্টরস স্টাডি অ্যাব্রোড’। যারা বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেইসব শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা এই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে তারা পড়াশোনার সামগ্রিক পরিকল্পনা, ভর্তির শর্তাবলি, স্কলারশিপ বা বৃত্তির সম্ভাবনা এবং আবেদন ও ভিসাপ্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারবেন।
মেন্টরস স্টাডি অ্যাব্রোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোন দেশে পড়াশোনা করা হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজস্ব একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, আর্থিক সামর্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যান যে, ঠিক কোথা থেকে শুরু করা উচিত। অনেকের পছন্দের দেশ নির্দিষ্ট থাকলেও কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি সেরা হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকে। আবার কেউ কেউ জানতে চান, তাঁদের বর্তমান একাডেমিক ফলাফল ও যোগ্যতা অনুযায়ী কোন দেশে বা কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইট অনুসন্ধান করেন কিংবা পরিচিতদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেন, তবে সব সময় সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি অভিজ্ঞ শিক্ষা-পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বললে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মেন্টরস স্টাডি অ্যাব্রোড মূলত বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, বৃত্তির সম্ভাবনা এবং আবেদনসংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে থাকে। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতির কোন পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সহজ হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশ নির্বাচন করলেই সব শেষ হয় না। টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আবেদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা, ইংরেজি ভাষাদক্ষতার শর্ত এবং ভিসার কঠোর নিয়ম—সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এসব বিষয়ে অবগত হওয়া প্রয়োজন, কারণ বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্তের সাথে পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীর দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ জড়িত থাকে।
এবারের মেলার অন্যতম বিশেষ দিক হলো, সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও তথ্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। যারা ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় এসে মেলায় অংশ নিতে পারবেন না, তারা ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান অনলাইন ফেয়ারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরাও ঘরে বসেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামগ্রিকভাবে, স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি করা। আর মেন্টরস স্টাডি অ্যাব্রোডের মতো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের সামনে সরাসরি বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনার পথ প্রশস্ত করছে।
যাঁরা বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই মেলাটি হতে পারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য সুযোগগুলো যাচাই এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। কারণ, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা শুরু করতে পারলে উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ ও জটিল পথটি অনেক বেশি গোছানোভাবে পাড়ি দেওয়া সম্ভব।