ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়মে বলা হয়েছে, একই কর্মস্থলে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করলেই একজন কর্মী সাধারণভাবে বদলিযোগ্য হবেন। তবে জনস্বার্থ কিংবা বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজনে যেকোনো সময় বদলি করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।

‘অগ্নিনির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ নামে এই নতুন নীতিমালাটি জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নতুন নির্দেশনার ফলে ২০২৩ সালের পূর্ববর্তী নীতিমালা এবং ২০২৪ সালের সংশোধনীটি বাতিল করা হয়েছে।

নীতিমালার বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, পঞ্চম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বদলি ও পদায়নের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১২তম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মীদের নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না। তবে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা নিজ উপজেলা বাদে নিজ জেলার কাছাকাছি কোনো কর্মস্থলে পদায়নের সুযোগ পাবেন।

বিশেষ এলাকার জন্য আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের ওইসব এলাকায় দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলে বদলি বা পদায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া স্টেশন অফিসার বা সমমানের পদ থেকে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরতদের ক্ষেত্রে নিজ জেলায় পদায়নের সুযোগ নেই। তবে মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ দুইবার পদায়ন করা সম্ভব হবে।

পারিবারিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে তাদের একই বা কাছাকাছি কর্মস্থলে পদায়নের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া কোনো কর্মী বা তাঁর পরিবারের নিকটাত্মীয় কেউ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে, চিকিৎসার সুবিধার্থে বদলির আবেদনটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মীদের জন্য বিশেষ নিয়ম করা হয়েছে। অবসরোত্তর ছুটি শুরুর ১৩ মাসের কম সময় বাকি থাকলে সাধারণভাবে আবেদন ছাড়া বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই নিয়মের ব্যতিক্রম করা যেতে পারে। পাশাপাশি, একই পদে কর্মরত দুজন কর্মীর পারস্পরিক সম্মতি এবং সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড থাকলে তারা পারস্পরিক বদলির সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর জনবলসংকটপূর্ণ বিভাগে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বদলি ও পদায়নের যাবতীয় প্রস্তাব পরিচালকের (প্রশাসন ও অর্থ) মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।