বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তৃতীয়বারের মতো এই সংশোধিত নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই নতুন নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২৭ জুলাই বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর প্রথমবার তা সংশোধন করা হয়। এবার সেই নীতিমালায় পুনরায় সংশোধন আনা হয়েছে।

প্রকাশিত নীতিমালার তথ্যানুসারে, বদলি বা পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকরা চাকরিতে দুই বছর পূর্ণ করার আগে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অন্য কোথাও বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক, মানসিক কিংবা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবেদনের সুযোগ থাকবে। তবে আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করে তা বিবেচনার চূড়ান্ত এখতিয়ার থাকবে সরকারের হাতে।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই যদি চাকরিজীবী হন, তবে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে অথবা তার নিকটতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি বা পদায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। সরকার এই বিষয়টি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এছাড়া অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার এক বছর আগে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক তার সুবিধাজনক স্থানে বদলির আবেদন করলে, পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই আবেদন বিবেচনা করা হবে।

পাশাপাশি জানানো হয়েছে, আবেদনের তথ্যে কোনো অসম্পূর্ণতা থাকলে অথবা পিডিএস (PDS) হালনাগাদ করা না থাকলে বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে না। বদলির আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত জটিলতা, আবেদনকারী বা তার পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।