মাঠের চারদিকে ডানে-বামে ঝাঁপিয়ে পড়া, কখনো দুই হাত বাড়িয়ে বল ধরা, আবার কখনো এক হাতেই বল মুঠোবন্দী করা—ডারবানের কিংসমিডে স্টিভ স্মিথের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো সাধারণ ফিল্ডার নন, বরং একজন জাদুকর। অন্যদিকে বল হাতে প্যাট কামিন্স হয়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। একজন বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন, আর অন্যজন অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ ধরে দেখিয়েছেন তাঁর দক্ষতা। অস্ট্রেলিয়ার এই দুই তারকার অসাধারণ যুগলবন্দীতে ডারবান টেস্টের তৃতীয় দিনটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩৯০ রান সংগ্রহ করেছিল। এর জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে। নিক ম্যাডিনসন ১৭ এবং ট্রাভিস হেড ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আলোকস্বল্পতার কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো খেলা নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার মোট লিড এখন ১৩৯ রান।
দিনের মূল আকর্ষণ ছিল স্টিভ স্মিথের অসাধারণ ফিল্ডিং। এই ম্যাচে মোট চারটি ক্যাচ নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ক্রিকেটার। যার মধ্যে তিনটি ক্যাচ ছিল রীতিমতো চোখধাঁধানো। নাথান লায়নের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্মিথের হাতে ধরা পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। এরপর ডেভিড বেডিংহামের ক্যাচটি নিতে প্রথম স্লিপের সামনে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্মিথ। এটি ছিল তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ২২১তম ক্যাচ। এর মাধ্যমে উইকেটকিপার নন এমন ফিল্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরার রেকর্ডে জো রুটকে ছাড়িয়ে গেলেন স্মিথ। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্তটি ছিল কাইল ভেরেইনারের রিভার্স সুইপে উড়ে আসা বলটি এক হাতে লুফে নেওয়া, যা দেখে মনে হচ্ছিল স্মিথ যেন মাধ্যাকর্ষণ নিয়মকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
বল হাতে প্যাট কামিন্সও ছিলেন সমান বিধ্বংসী। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের চরম অস্বস্তিতে ফেলেন। ১৫ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। ১৪৩ কিলোমিটার গতির একটি বাউন্সারে মুল্ডারকে বিভ্রান্ত করার পর শর্ট বলের ফাঁদে ফেলেন ট্রিস্টান স্টাবসকেও। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন বেডিংহাম। এইডেন মার্করামের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৮৪ রান। এছাড়া মুল্ডার ও স্টাবস যোগ করেন ৫৬ রান। ইনিংসের শেষ দিকে কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমারের ৫২ রানের জুটি রান ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে এনেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নজর কাড়েন নিক ম্যাডিনসন। প্রথম ইনিংসে ৩৩ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে যাওয়া এই ওপেনার এবার প্রথম বলেই মার্কো ইয়ানসেনকে চার মেরে চমকে দেন। ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর টেস্ট ক্রিকেটে এটিই ছিল তাঁর প্রথম রান।