আগের দিন ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে প্রায় চার শ রানের সংগ্রহ গড়েছে সফরকারীরা। ম্যাট রেনশর দুর্দান্ত এক ইনিংসে পাল্টে গেছে ম্যাচের চিত্র। ক্যারিয়ারসেরা ১৯০ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এরপর বোলিংয়ে নেমেও দ্রুত সাফল্য পেয়েছে সফরকারীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ডারবানের কিংসমিডে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৮ দশমিক ৪ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে এখনো ৩৬৩ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় এইডেন মার্করাম ১৫ ও ডেভিড বেডিংহাম ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আগের দিনের ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। রেনশ অপরাজিত ছিলেন ৪৬ রানে, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৩৩ রানে। দিনের শুরুতেই ফিফটি পূর্ণ করেন রেনশ। তবে কামিন্সকে ফিরিয়ে সপ্তম উইকেটে ৮৬ রানের জুটি ভাঙেন উইয়ান মুল্ডার। ৪৩ রান করে স্লিপে মার্করামের হাতে ক্যাচ দেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক।

এরপর মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে দেন মুল্ডার। ৬ রান করে তার বলে বোল্ড হন স্টার্ক। ২৩০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে তখন দ্রুত ইনিংস শেষ করার সুযোগ।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দেননি রেনশ ও নাথান লায়ন। নবম উইকেটে দুজন গড়েন ১৩৪ রানের জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে নবম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড এটি।

এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন লায়ন। অন্য প্রান্তে রান বাড়িয়ে যেতে থাকেন রেনশ। ২০৪ বলে শতক পূর্ণ করার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি। মধ্যাহ্নবিরতিতে ১০২ রানে অপরাজিত থাকা রেনশ দ্বিতীয় সেশনে দেড় শও পেরিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত লায়নকে এলবিডব্লিউ করে ১৩৪ রানের রেকর্ড জুটি ভাঙেন মার্কো ইয়ানসেন। ৯২ বলে ২৭ রান করেন অস্ট্রেলীয় স্পিনার। তার বিদায়ের সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৩৬৪ রানে।

লায়ন ফেরার পর শেষ ব্যাটার জশ হ্যাজলউডকে নিয়ে আরও ২৬ রান যোগ করেন রেনশ। চা-বিরতিতে তার রান ছিল ১৯০। তবে বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই সাইমন হারমারের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩৯৭ বলের ইনিংসে ২১টি চার ও একটি ছক্কা মারেন রেনশ।

৯ বছর ২৮০ দিন পর টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া রেনশ এদিন নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৮৪ রানকেও ছাড়িয়ে যান। ডারবানে টেস্টে কোনো অস্ট্রেলীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও এখন তার। এর আগে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ফিল হিউজের ১৬০ রান।

রেনশর ইনিংসে বড় সংগ্রহ পাওয়ার পর বল হাতেও শুরুটা দারুণ হয় অস্ট্রেলিয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রায়ান রিকেলটনকে ফিরিয়ে দেন হ্যাজলউড। রানের খাতা খোলার আগেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।

এরপর অবশ্য মার্করাম ও বেডিংহামকে আর ফেরাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটির মধ্যেই আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি।