সাতক্ষীরার বুধহাটা কাছারিপাড়া সর্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত উপকরণের পরিবর্তে প্রায় ৪৫ কেজি মুগ ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দীর্ঘ ১৫ দিনের কঠোর পরিশ্রমে মুগ ডালের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবয়ব। এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মটি দেখার জন্য শারদীয় পূজার আগেই মন্দিরে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আগত দর্শনার্থীরা।
উল্লেখ্য যে, এই মন্দিরটিতে এবার ১০৬তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথাগত উপকরণের বাইরে গিয়ে মুগ ডালের এই সৃজনশীল ব্যবহার এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিমার পাশাপাশি বিশেষ প্যান্ডেল এবং আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার পরিকল্পনা করেছেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই ঘোষ বলেন, “এ বছর মুগ ডালের প্রতিমা তৈরি করায় পূজার আয়োজন আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আলোকসজ্জার কাজও সুন্দর হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।”
প্রতিমা তৈরির কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন না হলেও এরই মধ্যে আয়োজকেরা ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কাকলি বিশ্বাস বলেন, “প্রতিমা দেখতে আসা মানুষজন এটি দেখে আনন্দ পাচ্ছেন এবং প্রশংসা করছেন। প্যান্ডেলের কাজ শেষ হলে পুরো আয়োজন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।”
আয়োজক কমিটির সদস্য জয়কৃষ্ণ কর্মকার জানান, প্রতি বছরই এই মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। তবে এবার নতুনত্ব আনার লক্ষ্যেই ৪০ থেকে ৪৫ কেজি মুগ ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই বিশেষ আয়োজনটি দেখতে তিনি সবাইকে মণ্ডপে আসার আমন্ত্রণ জানান।
মন্দিরের ক্যাশিয়ার পবিত্র দেবনাথ জানান, প্রতিমার পাশাপাশি দেবীগঞ্জের ঠাকুরবাড়ির আদলে প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। কমিটির সদস্য এবং গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় পুরো আয়োজনটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিমা ও প্যান্ডেলসহ সামগ্রিক আয়োজনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা।
আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য শুভঙ্কর বিশ্বাস বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনা করে মুগ ডালের প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা থেকেই এবারের আয়োজন। প্রতিমার পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্যান্ডেলও দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন তারা।”
মুগ ডালের এই অনন্য প্রতিমা এবং নান্দনিক প্যান্ডেলের সমন্বয়ে এবারের দুর্গোৎসবকে স্মরণীয় করে তুলতে চান মন্দির কমিটির সদস্যরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সৃজনশীল উদ্যোগটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।