ইউরোপের ছয়টি দেশ ভ্রমণের পর আজ শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার সময় আকস্মিক অসুস্থতা এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেছেন ঠিকাদার আবদুল হাছিব (৫২)। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে শোক স্তব্ধ হয়ে গেছে তাঁর পরিবার ও পরিজনরা।
মৃত আবদুল হাছিব মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আকুল মিয়ার বড় ছেলে। পেশায় ঠিকাদার হাছিব তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া পৌর শহরের উছলাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। বিয়ের চার বছর পার হলেও তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
হাছিবের সহকর্মী এবং কুলাউড়ার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ জানান, তাঁরা দুজন এবং কুলাউড়ার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মুহিবুর রহমান ভিসা নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা তিনজন একসঙ্গে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তাঁরা নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও এলাকা ঘুরে দেখেন। দীর্ঘ ভ্রমণের পর ৭ অক্টোবর তাঁরা দেশে ফিরে আসেন। এরপর ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে আজ শনিবার বেলা ১০টার দিকে প্রাইভেট কারে করে তাঁরা তিনজন কুলাউড়ায় পৌঁছান।
সোহেল আরও জানান, হাছিবকে তাঁর ভাড়া বাসায় নামিয়ে দিয়ে অপর দুজন নিজেদের বাসায় চলে যান। তিনি বলেন, "বেলা দেড়টার দিকে হাছিবের স্বজনেরা মুঠোফোনে জানান, বিশ্রামের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে মৌলভীবাজার জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।" এর কিছু সময় পর তিনি হাছিবের মৃত্যুর খবর পান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল আলীম শোক প্রকাশ করে বলেন, "আবদুল হাছিব এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।"
মৃতের প্রথম জানাজা আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ছয়টায় কুলাউড়া পৌর শহরের লস্করপুর শাহি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় তাঁর নিজ এলাকা বিরইনতলা কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন করে তাঁকে দাফন করা হবে।