মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরে সাত মাস বয়সী একটি পার্সিয়ান জাতের বিড়াল নিখোঁজ হয়ে গেছে। বিড়ালটির নাম ‘মিরুশি’। নিখোঁজ বিড়ালটির সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন দুই বোন।
শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করপুর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী হাবিবা ইসলাম ও আয়শা ইসলাম ওই বিড়ালটি পুষতেন। তাঁদের সংগ্রহে শুধু ‘মিরুশি’ নয়, দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে মোট আটটি বিড়াল রয়েছে। বড় বোন হাবিবা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং ছোট বোন আয়শা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
গত বুধবার রাতে হাবিবা তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘নিখোঁজ সংবাদ’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ৪ অক্টোবর তাঁদের পুরুষ বিড়াল ‘মিরুশি’ নিখোঁজ হয়। বিড়ালটির গায়ের রং সাদা ও হালকা ধূসর মিশ্রিত এবং শরীর ও লেজে ঘন লম্বা পশম রয়েছে। পোস্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
আজ দুপুরে দুই বোনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা শৈশব থেকেই বিড়াল পোষার অনুরাগী। বর্তমানে তাঁদের চারটি পার্সিয়ান ও চারটি দেশি জাতের বিড়াল রয়েছে এবং প্রতিটি বিড়ালের আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে।
দুই বোন জানান, ৪ অক্টোবর তাঁদের বাসায় কয়েকজন অতিথি এসেছিলেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর তাঁরা লক্ষ্য করেন যে ‘মিরুশি’ নিখোঁজ। আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে খোঁজ করা হলেও বিড়ালটির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাঁদের ধারণা, অতিথিরা আসার সময় বাসার প্রবেশ ফটক খোলা থাকায় সেই সুযোগে ‘মিরুশি’ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি এক তরুণকে একটি বিড়াল বুকে জড়িয়ে ধরে হেঁটে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে ওই তরুণকে তিনি চিনতে পারেননি। এই তথ্যের সূত্র ধরে পাশের এক আত্মীয়ের বাসায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে তরুণটিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর কাছে বিড়াল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এরপরই লস্করপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাইকিং শুরু করা হয়।
দুই বোন শহরের বাসস্ট্যান্ডেও গিয়ে বিড়ালের খোঁজ করেন। বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপক তাঁদের জানান, ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর এক তরুণকে বিড়াল কাঁধে করে একটি বাসে উঠতে দেখেছেন। ওই সময় জিজ্ঞাসা করা হলে তরুণটি রসিকতা করে বলেছিলেন, “এইটা শিক্ষিত বিড়াল।”
হাবিবা জানান, বিড়ালের সন্ধানে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাঁরা সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং সন্ধানদাতাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলেও জানান।
হাবিবা ও আয়শা চার বোন ও এক ভাইয়ের পরিবার। তাঁরা জানান, ছোটবেলায় তাঁদের দুটি দেশি বিড়াল ছিল। একবার তাঁদের বাবা রাগের মাথায় বিড়াল দুটিকে বাড়ি থেকে দূরে ফেলে রেখে চলে আসেন। স্কুল থেকে ফিরে বিড়াল দুটিকে না দেখে দুই বোন কান্নাকাটি শুরু করলে বাবা বাধ্য হয়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বিড়াল খুঁজতে বের হন। প্রথমে একটি এবং সাত-আট দিন পর অন্যটির সন্ধান মেলে, যা তাঁদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত।
দুই বোন জানান, গত দুই বছর ধরে তাঁরা পার্সিয়ান জাতের বিড়াল পুষছেন। দেশি ও বিদেশি সব বিড়ালকে প্রতিদিন দুই বেলা মুরগির মাংস সেদ্ধ করে খাওয়ানো হয় এবং পাশাপাশি ‘ক্যাটস ফিড’ দেওয়া হয়। এই বিশেষ খাবারটি কুলাউড়ায় পাওয়া যায় না বলে তাঁদের মাঝে মাঝেই সিলেট নগরে গিয়ে দোকান থেকে তা কিনে আনতে হয়।
আবেগপ্লুত কণ্ঠে হাবিবা বলেন, “মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে কোনো বিড়াল মারা যায়। কখনো অন্য কোনো পশুকে তাদের আক্রমণ করতে দেখিনি।” তিনি আরও বলেন, “চার দিন ধরে মিরুশি নিখোঁজ। অনেকে বিড়াল পোষার কথা শুনে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে নানা মন্তব্য করেন। এটা খুব কষ্ট দেয়। আমাদের (দুই বোন) মনটা মোটেই ভালো নেই। অবশ্য অনেকে আমাদের পোস্ট শেয়ার করছেন। সবার সহযোগিতায় মিরুশিকে খুঁজে পাব, এই আশায় পথ চেয়ে আছি।”
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর জানান, দুই বোন থানায় গিয়ে পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিখোঁজ বিড়ালটির ছবি ও দুই বোনের নাম-ঠিকানা রেখেছি। বিড়ালটির সন্ধানে চেষ্টা চলছে।”