মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় জমিতে বিষ মেশানো ধান ছড়িয়ে রাখার এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই বিষাক্ত ধান খেয়ে শাহাবুদ্দিন (৩৫) নামের এক স্থানীয় খামারির ৭০টি ডিমপাড়া হাঁস মারা গেছে। খামারির দাবি, এই ঘটনার ফলে তাঁর খামারের আরও দুই শতাধিক হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল রোববার উপজেলার পূর্ব সিঙ্গুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন ওই এলাকারই একজন বাসিন্দা। আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তাঁর খামারে ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের ৩১০টি হাঁস ছিল। স্থানীয়ভাবে এগুলো ‘টেপি হাঁস’ নামে পরিচিত। অধিকাংশ হাঁস ডিম পাড়ত। প্রতিদিন সকালে বাড়ির পাশের হাতপারি গাঙ নামের একটি ছোট নদীতে হাঁসগুলো ছেড়ে দিতেন। বিকেলে সেগুলো আবার বাড়িতে নিয়ে আসতেন।

গতকাল সকালেও নিয়ম অনুযায়ী হাঁসগুলো নদীতে ছেড়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে দুপুরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন সেখানে ৭০টি মৃত হাঁস পড়ে থাকতে দেখেন। এছাড়া স্থানীয় অন্যান্য ব্যক্তিদের আরও ছয়টি মৃত হাঁস সেখানে পড়ে ছিল। এরপর তিনি দ্রুত বাকি হাঁসগুলোকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

জীবিকার তাগিদে পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে তিনি হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। এই খামারের আয়ের ওপরই নির্ভরশীল তাঁর পুরো সংসার।

শাহাবুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর কিনারের একটি জমিতে কিছু ধান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা ছিল। মৃত হাঁসগুলোর পেটের ভেতর ওই ধান পাওয়া গেছে। তাঁর দৃঢ় ধারণা, বিষ মেশানো ধান খেয়েই হাঁসগুলো মারা গেছে।

উল্লেখ্য, জীবিকার তাগিদে পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। এই খামারের আয়েই তাঁর সংসার চলে। বর্তমানে এক প্রাণিচিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বাকি অসুস্থ হাঁসগুলোকে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ময়নুল হক এই ঘটনাটিকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে খামারমালিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।